৮ম শিরোপায় চোখ ব্লু টাইগারদের

সাঈদ ইবনে সামস

0
791

সাফের সবচেয়ে বেশী শিরোপা জয়ী দল ভারত। এখন পযর্ন্ত মোট ৭বার শিরোপা নিজেদের ঘরে তুলেছে তারা। এবার নিজেদের ৮ম শিরোপায় চোখ ব্লু টাইগারদের।

ভারতের ফুটবল ইতিহাস অনেক বড়ই বলতে হয়। দক্ষিন এশিয়ার সবদলের ফুটবল ইতিহাস থেকে তাদের ইতিহাসই সমৃদ্ধ। ভারত স্বাধীনতা লাভ করে ১৯৪৭ সালে। ইংরেজ আমল থেকেই তারা ফুটবল খেলে আসছে। ৩ সেপ্টেম্বর ১৯৩৮ সালে ভারত তাদের প্রথম ম্যাচ খেলে অস্ট্রেলিয়ার সাথে। সিডনিতে হওয়া সে ম্যাচে ৫-৩ গোলে পরাজিত হয় তারা। স্বাধীনতা লাভের পর ১৯৪৮ সালে তারা স্বাধীন দেশ হিসেবে প্রথম ম্যাচ খেলে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে। লন্ডনের অনুষ্ঠিত ম্যাচটি ভারত ২-১ গোলে হারে।এশিয়ান কাপে তাদের সাফল্য রয়েছে বলার মতো। ১৯৬৪ সালে রানার্স আপ হয়েছিলো তারা। ১৯৫০-৬০ এই ১০ বছরকে ভারতীয় ফুটবলে স্বর্ন যুগ বলা হয়।

১৯৯৩ সালে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত প্রথম সাফের শিরোপা জিতে ভারত। প্রথম সাফে মাত্র ৪টি দল অংশ নিয়েছিলো। ১৯৯৫ সালে সাফের রানার্স আপ হয় ভারত। কিন্তু ১৯৯৭ সালের সাফে আবারো চ্যাম্পিয়ন হয় তারা। ১৯৯৭ সালে ফাইনালে তারা মালদ্বীপকে ৫-১ গোলে পরাজিত করে। ভারতের হয়ে ২টি গোল করেন ভিজয়ান। ১৯৯৯ সালে নিজেদের মাটিতে অনুষ্ঠিত সাফেও চ্যাম্পিয়ন হয় ভারত। বাংলাদেশকে ২-০ গোলে ফাইনালে হারিয়ে শিরোপা নিজেদের কাছেই রাখে তারা। ফাইনালে ভারতের হয়ে ব্রুনো চৌতন্য এবং বাইচুং ভুটিয়া গোল করেন। ২০০৩ সাফে ৩য় স্থান হলেও ২০০৫ সালে আবারো শিরোপা নিজেদের নামে করে নেয় ভারত। ২০০৮ সালের সাফে মালদ্বীপে কাছে ফাইনালে পরাজিত হতে হয় তাদের। ২০০৯ এবং ২০১১ সালে সাফ শিরোপা আবার পায় ভারত। ২০১৩ সালে আফগানিস্তানের কাছে ফাইনালে পরাজিত হলেও কিন্তু সর্বশেষ সাফের আবারো শিরোপা জিতে তারা। সাফ যেন নিজেদের সম্পত্তি করে নিয়েছে ভারতীশ ফুটবল দল।

২০১৮ সালে সাফেও শিরোপায় চোখ ভারতীয় দলের। কিন্তু এইবারের দলে সব তরুন ফুটবলার নিয়েছেন কোচ স্টিফেন কনস্টান্টটাইন। ইংলিশ এই কোচ ২০১৫ থেকে ভারতীয় জাতীয় দলের কোচ। ১৯৯৯ সাল থেকে কোচিং করাচ্ছেন স্টিফেন। ২০০২-২০০৫ সাল ভারতীয় দলের দায়িত্বে ছিলেন। এছাড়াও সুদান জাতীয় দলেরও দায়িত্বে ছিলেন তিনি। এখন পযর্ন্ত মোট ১১টি দলের কোচ ছিলেন তিনি। তাদের অধীনে ভারত সাফ জিতেছে এবং ২০১৯ এএফসি এশিয়ান কাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। জুনে ইন্টারকনটিনেটাল কাপ জিতেছে ভারত। এই সাফ জিতে ২০১৮ রাঙিয়ে তুলতে চান ইংলিশ এই কোচ।

প্লেয়ার টু ওয়াচ আউট-

★নিকিল পূজারি
★বিশাল কাইথ
★সুমিত পাস্সি
★অানুরিধ থাপা

নিকিল পূজারি একজন মধ্য মাঠের খেলোয়াড়। ২২ বছর বয়সী এই ফুটবলার ভারতীয় ক্লাব ইস্টবেঙ্গলের মিডফিল্ডে অন্যতম ভরসার নাম। বয়স মাত্র ২২ বছর হলেও নজরে এসেছেন খুব তাড়াতাড়ি। নিজেকে সেরা প্রমানে এখনই ভারতের আইএসএলের দল পুনে সিটিতে জায়গা করে নিয়েছেন। মাঝমাঠে ভালো পাসিং, লং পাস, গোল বানানোর ভালোই দক্ষতা আছে তার। ২০১৬ সাল থেকে তিনি ইস্টবেঙ্গল দলের নিয়মিত সদস্য তিনি। ভারত জাতীয় দলের হয়ে এখন পযর্ন্ত ১টি ম্যাচ খেলেছেন। তিনি মূলত অনূর্ধ্ব-২৩ দলের খেলোয়াড়।

২২ বছর বয়সী গোলরক্ষক বিশাল কাইথ মূলত অনূর্ধ্ব-১৯ ও ২৩ দলের গোলরক্ষক। এখনো জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক হয়নি তার। কিন্তু ভালো গোলকিপিং দিয়ে কোচের পরিকল্পনায় আছেন অনেকদিন ধরে।শিলং লাজং হয়ে ২০১৪ সালে ক্লাব পর্যায় খেলা শুরু করেন। ২০১৬ সালে লোনে পুনে সিটিতে যোগ দেন তিনি এবং ২০১৭ সালে পুরোপুরি পুনে সিটিতে চলে যান। ৪ অক্টোবর ২০১৩ সালে কাতার অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সাথে ভারতের বয়সভিত্তিক দলের হয়ে অভিষেক হয় তার। সাফেই তার জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক হবে।

সুমিত পাস্সি একজন ফরোয়ার্ড। এই সাফে ভারতকে নেত্বতৃ দিবেন ২৩ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার। তিনি বর্তমানে আইএসএল এর দলের জামসেদপুর এফসিতে খেলেন। ২০১৩ সাল থেকে ক্লাব পর্যায় ফুটবল খেলছেন তিনি। ৬ফুট লম্বা এই স্ট্রাইকার ভারতীয় দলের ভবিষ্যত বলতে হয়। ২০১৬ সালে ভারতীয় জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক হয় তার। এখন পযর্ন্ত ৩টি ম্যাচ খেলেছেন। ভারতীয় বয়সভিত্তিক দলের হয়ে খেলার অভিজ্ঞতা আছে তার। ফিনিশিংয়ে ভালো দক্ষতা আছে এই স্ট্রাইকারের। যেকোনো মূহুত্বে বিপক্ষ দলের ভয়ের নাম হয়ে উঠতে পারেন পাস্সি।

অানুরিধ থাপা একজন সেন্টার মিডফিল্ডার। বয়স মাত্র ২০ বছর হলেও ভারতীয় মিডফিল্ডের পরবর্তী কান্ডারি এই থাপা। ভারতীয় জাতীয় দলের হয়ে ৭টি ম্যাচ খেলে ফেলেছেন তিনি। ভারতীয় বয়সভিত্তিক দলগুলোর হয়েও খেলেছেন।চেন্নাইয়ানের হয়ে ক্লাব পর্যায় খেলেন তিনি।মিডে ভালোই দক্ষতা আছে তার। বয়স কম হলেও ফিটনেস ভালো এবং গোল বানিয়ে ভালো দক্ষতা রয়েছে। ২০১৭-১৮ আইএসএলে ২টি গোলও আছে থাপার। ২০১৭-১৮ আইএসএল জিতেছেন থাপা চেন্নাইয়ান এফসির হয়ে।

এছাড়াও শুভাশিষ বসু এবং লালিয়ানজুয়ালা চাংতের উপরও নজর রাখতে হবে প্রতিপক্ষদের। ভারতীয় দলের সব খেলোয়াড়ই তরুন। কিন্তু সহজভাবে নেয়া যাবে না কাউকে। আইএসএলে নিয়মিত খেলেন তারা। বড় বড় প্লেয়ারদের সাথে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং অনুশীলন করে ভালোই প্রস্তুতি নিয়েছে ভারত।

বর্তমান র্যাকিং- ৯৬
সম্ভাব্য ফরমেশন : ৪-২-৩-১ বা ৪-৪-২

সাফে ভারতীয় দল:

বিশাল কাইথ
সালাম রঞ্জান সিং
শুভাশীষ বোশ
আনুরিধ থাপা
জার্মানপ্রিত সিং
সুমিত পাস্সি
নান্ধা কুমার
আশিক কুরুনিয়ান
সারথাক গলুই
ফারুক চৌধুরি
সাজিদ ধোত
দেবিন্দর সিং
লালিয়ানজুয়ালা চাংতে
মানভির সিং
হিতেশ শর্মা
ভিনিত রায়
কামালজিৎ সিং
জেরি লালরিনজুয়ালা
ভিগনেস ডি ডি
নিখিল পূজারি
ইসাক সাওমা
সুখদেব পাটিল

দেখার বিষয় ভারতের এই তরুন দলটি কি শিরোপা জয় করতে পারে নাকি হতাশায় ডুবায় ভারতীয় ফুটবল প্রেমিকদের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here