২০১৮ সাল এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট

0
304

সাঈদ ইবনে সামস: ১৯৮৬ সালে বিশ্ব ক্রিকেটে পথ চলা শুরু হয় বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের। এত বছরের ক্রিকেট ইতিহাসে ২০১৮ সালকেই সেরা বছর বলা চলে। এই বছরই বাংলাদেশের অন্যতম কিছু সাফল্য রয়েছে। তিনটি ফাইনাল হারলেও সাফল্যর পাল্লাকেই ভারি বলা চলে।

২০১৮ সালে বাংলাদেশ দল টেস্ট, ওডিআই, টি-টুয়েন্টি মিলিয়ে ৪৪টি ম্যাচ খেলেছে। যেখানে ২০ ওয়ানডেতে ১৩টি জয় পেয়েছে টাইগাররা। ৮ টেস্ট খেলে জয় আছে ৩ টিতে। জিম্বাবুয়ের কাছে এক টেস্ট না হারলে আরো ভালো পরিসংখ্যান হতো টেস্টে। এই বছর ১৬টি টি-টুয়েন্টি খেলেছে বাংলাদেশ দল কিন্তু জয় মাত্র ৫টিতে। এই ফরম্যাটে বাংলাদেশ এখনো ভালো দল হয়ে উঠতে পারেনি যেখানে টি-টুয়েন্টি ফরম্যাট শুরু হওয়ার সময় ভাবা হচ্ছিলো এটিই হবে বাংলাদেশের মতো দলগুলোর জন্য সেরা ফরম্যাট।এই বছর আফগানিস্তানের সাথে ভারতের মাটিতে টি টুয়েন্টি ফরম্যাটেই সিরিজ হেরেছে বাংলাদেশ।
২০১৭ সালের সাফল্য বাংলাদেশ দল ২০১৮ সালেও ধরে রাখেছে। বছরের শুরুতে ত্রিদেশী সিরিজের ফাইনালে উঠেও স্বপ্ন ভঙ্গ হয়। মার্চে নিদাহাস ট্রফি ফাইনালে গেলেও দিনেশ কার্তিকের অসাধারন নৈপুন্য বাংলাদেশকে ফাইনালে পরাজিত করে ভারত। সেপ্টেম্বরের এশিয়া কাপেও ভারতের কাছে ফাইনালে হারের স্বাদ নিতে হয় টাইগারদের। এর মাঝে ওয়েস্ট ইন্ডিজজের মাটিতে টেস্টে লজ্জার সাক্ষী হয় বাংলাদেশ দল। কিন্তু এই সিরিজে ওডিআই এবং টি-টুয়েন্টিতে ঘুরে দাড়ায় তারা। দুইটি সিরিজই ২-১ ব্যবধানে জিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরকে সাফল্যমনৃডিত করে বাংলাদেশ। বছরের শেষ দিকে জিম্বাবুয়ের সাথে একটি টেস্ট হারলেও প্রত্যাশিতভাবে বাকি সব ম্যাচে জয় পায় তারা। উইন্ডিজদেরও ভালোভাবেই টেস্ট ও ওডিআই তে পরাজিত করে।তবে সেই টি টুয়েন্টি ফরম্যাটেই ধরা খেয়ে বসে বাংলাদেশ।

দলীয় সাফল্যর ছাড়াও এবার খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে নজর কাড়ার মতো। এই বছর টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি রান করেছেন মুমিনুল হক। যিনি ১৫ ইনিংসে ৪৫ গড়ে ৬৭৩ রান করেন বাংলাদেশের পক্ষে।এই বছর মুমিনুল ৪টি শতক হাকিয়েছেন। তার ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ হচ্ছে ১৭৬ রান যেটি শ্রীংলকার বিরুদ্ধে। ২য় স্থানে আছেন মুশফিকুর রহিম। তিনি ১৫ ইনিংসে ৪৯০ রান করেন। মুশফিক এই বছর বাংলাদেশের হয়ে একটি দুইশতাধিক রানের ইনিংস খেলেন যেখানে প্রতিপক্ষ ছিলো জিম্বাবুয়ে। ৩য় সর্বোচ্চ রান মাহামুদুল্লাহ রিয়াদের। তিনি ১৫ ইনিংসে ৪৭৬ রান করেন। রিয়াদের এইবছর শতক আছে দুইটি। রিয়াদের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ সংগ্রহ ১৩৬।

বোলারদের দিক থেকে বাংলাদেশের স্পিনারই বেশি এগিয়ে আছে। বোলাদের মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে তাইজুল ইসলাম। এইবছর তিনি ৭ম্যাচ খেলে ৩৩৩.১ ওভার বল করেছে। এই ৭ ম্যাচে উইকেট নিয়েছেন ৪৩টি।৭ ম্যাচে তাইজুল ৪ বার ৫ উইকেট নিয়েছেন। দ্বিতীয় স্থানে আছেন মেহেদি হাসান মিরাজ। তিনি ৮ ম্যাচ খেলে ২৯৯.১ ওভার বল করেছেন যেখানে উইকেট নিয়েছেন ৪১টি। তিনিও ৪ বার ৫ উইকেট নিয়েছেন। এছাড়াও ১৷বার করে ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়েছেন নাইম হাসান এবং সাকিব আল হাসান। এই বছরের সেরা বোলিং গড় সাকিব আল হাসানের। তার গড় ১৯.৩৫ । এছাড়াও মিরাজের ২২.১২, তাইজুলের ২২.৯৮ । সেরা বোলিং ফিগার মিরাজের যিনি উইন্ডিজদের বিপক্ষে এক ইনিংসে ৫৮ রানের বিনিময়ে ৭ উইকেট তুলে নেন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ওয়ানডে ফরম্যাটে ২০১৮ সালে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক মুশফিকুর রহমান। তিনি ১৯ ম্যাচে রান করেছেন ৭৭০। ইনিংস সর্বোচ্চ১৪৪ রান। পাঁচটি অর্ধশতকে পাশাপাশি একটি শতক রয়েছে তার।

এছাড়া বোলিংয়ে এগিয়ে মুস্তাফিজুর রহমান।১৮ম্যাচ তার উইকেট সংখ্যা ২৯। ইনিংস সেরা বোলিং ৪/৪৩।

এছাড়া টি-২০ ফরম্যাটেও ব্যক্তিগতভাবে ভালো করেছে বাংলাদেশী খেলোয়াড়রা।এই ফরম্যাটে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।তিনি ১৬ ম্যাচ খেলে সংগ্রহ করেছেন ৪১৪।তার ইনিংস সর্বোচ্চ ৪৫।

এখানেও উইকেটের দিক দিয়ে এগিয়ে কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমান। ১৩ ম্যাচে তার উইকেট সংখ্যা ২১ টি। ইনিংস সেরা বোলিং ৩/৩১।

দলীয় ও ব্যক্তিগত ভাবে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের বছরটি ছিলো অসাধারন।সামনে রয়েছে বিশ্বকাপ।তাই ক্রিকেটপ্রেমীদের প্রত্যাশা নিজেদের ছাড়িয়ে অনেক দূর যাবে টাইগাররা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here