২০০৩ কে ফিরিয়ে আনতে চায় বাংলাদেশ

সাঈদ ইবনে সামস

0
410

দক্ষিন এশিয়ার বিশ্বকাপ খ্যাত সাফ চ্যাম্পিয়নশীপের এবারে আসর বাংলাদেশে। Saff Suzuki Cup 2018 এর প্রতিটি দল নিয়ে Sports News Bangladesh এর ধারাবাহিক আয়োজনে আজ থাকছে স্বাগতিক বাংলাদেশ।

১৯৭৪ সালে ফিফার সদস্য হওয়ার পর সাফ ছাড়া আর কোনো বড় শিরোপাই জিততে পারেনি বাংলাদেশ। সেই ২০০৩ সালে নিজেদের মাটিতে হওয়া সাফ জয়ের পর আর কোন বড় শিরোপা হতে উঠে নি টাইগারদের। কিন্তু এবার আশার আলো দেখছে ১৭কোটি মানুষ। আজ ভুটানের সাথে ম্যাচের মধ্য দিয়ে সাফ মিশন শুরু করবে বাংলাদেশ। সবাই স্বপ্ন দেখছে সেই ২০০৩ আবারো ফিরে আসবে এবং ঢাকার মাটিতে সাফ জয়ের উৎসব করবে পুরো জাতি।

১৯৯৯ সাফে ফাইনালে ভারতের সাথে পরাজয়ের পর ২০০৩ সাফ হয়ে উঠে বাংলাদেশের স্বপ্ন পূরনের আসর।সেই আসরে শিরোপা জয়ের পর আর কোন উৎসবের উপলক্ষ পায় নি বাংলাদেশ। ২০০৫ সাফে আবারো সেই ভারতের কাছে ফাইনাল হারের স্বপ্ন ভঙ্গ।২০০৮ সালে সেমি থেকে বিদায়ের পর ২০১১ ও ২০১৩ তে গ্রুপ পর্বই পার হতে পারে নি টাইগাররা। ২০১৫ তেও সেই গ্রুপ পর্বের বিদায়।

বাংলাদেশের বর্তমান কোচ জেমি ডে। ইংলিশ এই কোচ খেলোয়াড়ি জীবনে মিডফিল্ডার ছিলেন। খেলেছেন ইংলিশের লিগে। ইংল্যান্ড এর হয়ে বয়সভিত্তিক দলেও খেলার অভিজ্ঞতা আছে তার। ২০০৯ সাল থেকে কোচিং ক্যারিয়ার শুরু জেমির। এই বছরই তিনি বাংলাদেশ জাতীয় দলের দায়িত্ব নেন। সম্প্রতি তার অধীনে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ এশিয়ার গেমনের রাউন্ড অফ-১৬তে উঠার গৌরভ অর্জন করে।

প্লেয়ার টু ওয়াচ আউট-

★জামাল ভূইয়া
★সাদ উদ্দিন
★ইমন মাহামুদ

জামাল ভূইয়াকে দক্ষিন এশিয়ার সেরা ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডাদের একজন ভাবা হয়। তার একমাত্র গোলেই কাতারকে হারিয়ে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দল এশিয়ান গেমসের রাউন্ড অফ-১৬ তে গিয়েছিলো। ২৮ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার এবার সাফে বাংলাদেশকে নেত্বতৃ দিবেন।ডেনমার্ক প্রবাসী এই খেলোয়াড় ২০১৩ সালে নেপালে বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে বাংলাদেশের হয়ে অভিষেক হয় তার। বাংলাদেশের হয়ে এখন পর্যন্ত ২৮টি ম্যাচ খেলেছেন কিন্তু জাতীয় দলের হয়ে কোনো গোল নেই তার। বর্তমানে বাংলাদেশের সাইফ স্পোটিং ক্লাবে হয়ে ক্লাব ফুটবলে খেলছেন তিনি।

সাদ উদ্দিন ১৯ বছর বয়সী প্রতিভাবান একজন স্ট্রাইকার। বর্তমানে বাংলাদেশে ক্লাব ঢাকা আবাহনীর হয়ে খেলছেন তিনি। বাংলাদেশের হয়ে অনূর্ধ্ব-১৬,১৭,১৯,২৩ দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন স্বাদ। সাফে জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক হবে তার। ২০১৮ এশিয়ান গেমসে অনূর্ধ্ব-২৩ দলের হয়ে উত্তর কোরিয়ার সাথে গোলও আছে তার। ঢাকা আবাহনীর হয়ে এফসি কাপেও গোল রয়েছে সাদ উদ্দিনের। বুঝা যায় তিনি হতে পারেন জেমি ডের প্রধান অস্ত্র।

ইমন মাহামুদ বাবু একজন অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার। গত মৌসুমে ঢাকা আবাহনীর হয়ে অনেক ভালো খেলা প্রদর্শন করেছেন।গত বাংলাদেশের লীগের সর্বোচ্চ এসিস্ট এসেছে তার পা থেকেই । জাতীয় দলেও নিয়মিত মুখ এই মিডফিল্ডার। তার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বাংলাদেশ দলকে সাফে অনেক সাহায্য করবে জয় ছিনিয়ে আনতে। জাতীয় দলের হয়ে এখন পযর্ন্ত ৮টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি,তবে কোনো গোল নেই।

এই তিন ফুটবলার ছাড়াও নজর থাকবে মামুনুল ইসলাম, ওয়ালি ফয়সাল, সোহেল রানা, আশরাফুল ইসলাম রানার উপর। মামুনুল ইসলাম, জামাল ভূইয়া এবং ইমন বাংলাদেশের মিডফিল্ডে মূল কারিগর। তাদের উপরই বেশি নজর থাকবে। তরুন ফুটবলার সুফিল এবং সাদের উপর ফরোয়ার্ড লাইনের দায়িত্ব পড়বে। সাথে আছেন সাখাওয়াত রনিও। ডিফেন্সে বাংলাদেশ বরাবরই দুর্বল। ওয়ালি ফয়সাল, তপু বর্মন, নাসিরউদ্দিন এবং সুসান্ত ত্রিপুরা এবার ডিফেন্সে থাকবে। কেমন হয় তাদের ডিফেন্স তাই এখন দেখার বিষয়।

বর্তমান র্যাকিং : ১৯৪
সম্ভাব্য ফরমেশন : ৪-২-৩-১

সাফে বাংলাদেশ দল :

আশরাফুল ইসলাম রানা
সোহেল ইউসুফ
ওয়ালি ফয়সাল
বিশ্বনাথ ঘোষ
টুটুল বাদশাহ
সুসান্ত ত্রিপুরা
নাসির উদ্দিন চৌধুরী
তপু বর্মন
মামুনুল ইসলাম
জামাল ভূইয়া
ইমন মাহমুদ
ফয়সাল মাহমুদ
আতিকুর রহমান
মাসুক মিয়া জনি
সোহেন রানা
রবিউল হাসান
সাখাওয়াত রনি
সাদ উদ্দিন
বিপলু আহমেদ
মাহবুবুর রহমান

এবারের বাংলাদেশ দলে রয়েছে তরুনদের প্রাধান্য।কোচও অনেক আশাবাদী এই দল নিয়ে।এবার কী তাহলে হবে তারুন্যের জয়গান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here