হে আবাহনী তোমাকে স্বাগত!

0
122

এলিস হকঃ ফুটবল গোলের খেলা ,গোল তো হবেই ,গোলের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে, বাড়বে..এটাই স্বাভাবিক। দুই দফায় গোল করে এগিয়েছিল আবাহনীরা। সেই সময় আবাহনীরা ৩-২ গোলে আবারো এগিয়ে যায়। মনে পড়ে যায় সেই ১৯৮৫ সালের চরমতম ঢাকা ফুটবল লীগের আকর্ষণীয় লীগ শিরোপার লড়াইয়ে নেমেছিল আবাহনী-ব্রাদার্সরা।

দারুণ জমছে ঢাকা বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ঐ উত্তর কোরিয়ার এপ্রিল টুয়েন্টি ফাইভ দল আর আবাহনী লিমিটেডের মধ্যকার এএফসি’র আয়োজনে সেমিফাইনাল খেলার প্রথম লেগের খেলায় মোকাবেলায় অবতীর্ণ.! বলতে বলতে ঢাকা আবাহনীর আরেকটি চমৎকার গোল আবাহনী ৪ : এপ্রিল ২ গোটা স্টেডিয়ামে নড়ে চড়ে বসে আর কী! একদম অবিশ্বাস্য খেলা!

চমৎকার অবিস্মরণীয় খেলা অথচ বুদ্ধিদীপ্ত খেলা নিয়ে দারুণভাবে এগিয়ে যাচ্ছিল আবাহনী আর এপ্রিলরা না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন.।আবাহনীরা মরা ফুটবল মাঠের মধ্যে দুর্বার গতিতে জেগে উঠেছে ! যেনো সদ্যজাত ঘুম হতে জেগে উঠলো আবাহনীরা! শুভ হোক বাংলাদেশের ক্লাবস্তরের তথা আবাহনীর সাফল্য পাওয়া নিয়ে অনেকেই খুব করে চাইছিলেন !

বাংলাদেশের আধুনিক ফুটবলের রূপকার সেই আবাহনী এখন দুর্দান্তভাবে খেলে চলেছিলেন সব খেলোয়াড়েরা যেনো দম বন্ধ হয়ে যাওয়া একটা ম্যাচ ! কী বলবো দাদা মশাই? যে স্বপ্নের খেলা আবাহনী দেখিয়ে চলেছে সেই ১৯৭২ সাল হতে এবং আজও। বাংলাদেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করে চলেছে আবাহনী ক্রীড়া চক্র তথা আবাহনী লিমিটেড।

মনে পড়ে যায় সেই ৫ই অক্টোবর ১৯৮৮ সালের ঘটনা । ঢাকা মোহামেডান ১-০ গোলে উত্তর কোরিয়ার এই এপ্রিল টুয়েন্টি ফাইভকে হারিয়েছিল সেই মালয়েশিয়ার কুয়ানতান মাঠে । তবুও তো একটা স্মরণযোগ্য ইতিহাস এগিয়ে যাক বাংলাদেশের ফুটবল। এগিয়ে যাক সকল স্তরের ক্লাবগুলো। আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে আমাদের ক্লাবগুলো বেশি বেশি করে ফুটবল খেলুক।

দেখবেন সাফল্য আপনা আপনিই ধরিয়ে দেবেই বীরের মতো; লড়ে যাক বাঙালির সকল খেলোয়াড়েরা। স্যালুট বাংলাদেশ ও উত্তর কোরিয়ার খেলোয়াড়দের প্রতি। র্যাংকিং  ট্যাংকিং কিছু না! খেললেই সাফল্য অবশ্যম্ভাবী চলে আসবে। ১৯৩৭ সালে ঢাকা একাদশের পাখি সেনের দেয়া গোলে বৃটিশ কোরিয়ন্থিয়ান দলকে হারিয়েছিল ঐ ঢাকা স্টেডিয়ামে। ৪-৩ গোলে সেমিফাইনালের প্রথম লেগের খেলায় আবাহনী ঐ এপ্রিল টুয়েন্টি ফাইভকে হারিয়েছে এটাই সবচেয়ে বড় অঘটনের ঘটনা গোল হতেই পারে। কারো কোনো দোষ-প্রদোষ না চাপিয়ে আবাহনীকে অভিনন্দন জানাতেই হয়। গোলকিপার সোহেল ভালো খেলেছেন .দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন. আরো ভালো খেলবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী আবাহনী লিমিটেডরা আমরা সব সময় আবাহনীর সাফল্য চাইবো।

আমরা বাংলাদেশকে বুঝি আবাহনী-মোহামেডানকে বুঝি এর কোনো বিকল্প নাই বাংলাদেশের সকল ক্লাবকে বুঝি সকল ফুটবল খেলোয়াড়দের সম্মাণ দেই সকল খেলোয়াড়দের প্রতি স্যালুট জানাই। সামনে আসছে আরো কঠিন খেলা সেটা আবাহনীদের সামনে উত্তর কোরিয়ার স্টেডিয়ামটি ভিন্ন পরিবেশ  প্রচন্ড শীত দেখা যাক কী হয়?

ডিফেন্সের দুর্বলতা বাংলাদেশী যেকোনো ক্লাবের চিরকাল নড়েবড়ে আগেও ছিল এখনো রয়েছে। কায়সার হামিদের আমলেও এই সমস্যা ছিল । তার আগে সালাহউদ্দিনের আমলেও এই সমস্যা ছিল বিশেষ করে রক্ষণভাগে বাংলাদেশের একটাই রোগ আছে তা হলো ডিফেন্সে জমাটবদ্ধ দল না। আলাদা করে বাঙলাদেশের রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের নিয়ে প্রতিরোধের উপর তেমন প্রয়োগ করা হয় না। আসলে আমাদের বাংলাদেশের বর্তমান প্রজন্মের এই দুর্বলতা আছে থাকছে। পরীক্ষিত না হলেও বর্তমান এই ডিফেন্সকে নিয়ে আরো ভালো করা যেতে পারে। ডিফেন্স চর্চা করা হয় না তা বলছি না ।ভালোই খেলেন তারা খেলোয়াড় ভালো থাকা মানে একটা আপেক্ষিক মাত্র ।তবে সবকিছু না কিন্তু ডিফেন্সে কোথায় কোথায় কোন অবস্থা থেকে কিভাবে লড়তে হয় সেটার অভিজ্ঞতা থাকলেও ট্যাকলে ফেইল করেন। বাংলাদেশের সেরা সেরা ডিফেন্ডারদের নিয়েও আন্তর্জাতিক ফুটবল প্রতিযোগিতায় বেশ কিছু ম্যাচে পরাজয় বরণের মুখ দেখেছেন । বলছি না বাংলাদেশ ঐভাবে প্রস্তুত নয় । অবশ্যই প্রস্তুত বাংলাদেশ সেই ক্ষমতা বাংলাদেশের রয়েছে।

বাংলাদেশ ভালো খেলতে পারবে যদি বেশি বেশি করে আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচ খেলার সুযোগ পান খেলতে খেলতে এমনি এমনি সাফল্য চলে আসবে । আর খেলতে খেলতে রক্ষণভাগের খেলোয়াড়েরা এমনি এমনি শিখে যাবেন কাউকে বলতে হবে না  অমুকের দোষ তমুকের দোষ রয়েছে। বাংলাদেশের ফরোয়ার্ডরা আজ ক্রমেই জ্বলে উঠেছেন গোল করেছেন গোলের খেলা  দেখতে পেরেছেন। নিঃসন্দেহে আবাহনী ও মোহামেডান দল বাংলাদেশের সেরা প্রতিদ্বন্দ্বিকারী ফুটবল ক্লাব হিসেবে অনেক আগেই স্বীকৃতি হয়ে রয়েছে।

এখন হতে উত্তর কোরিয়ার মাঠে ময়দানে গিয়ে বেশি বেশি ক্লাব প্রীতি ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করা চাই । যতবেশি উত্তর কোরিয়ার সাথে হাত বাড়িয়ে দেবেন ততবেশি তারা এগিয়ে আসবে বাংলাদেশকে সাহায্য করতে। ধন্যবাদ জানাই সেনাবাহিনীর আদলে গড়া উত্তর কোরিয়ার এপ্রিল ‍টুয়েন্টি ফাইভ দলকে। এটা সম্ভব হয় আবাহনীর ডিফেন্সের গাইডলাইনে একটু শক্তপোক্তের উপর ঠিক হয়ে থাকা আজকে যেটা দেখলাম অবশ্যই কিছু কিছু রক্ষণভাগ সীমানায় বেশ ঘাটতি রয়েছে দ্রুত মেরামত করা সম্ভব যদি খেলোয়াড়েরা তাদের দায়িত্ব নিয়ে বেশ সোচ্চার থাকেন।

খেলার ৩ ঘন্টা আগে একটা লেখা পোস্ট করেছিলাম ফুটবলের স্ট্র্যাটেজিক্যালিতে পিছিয়ে থাকলেও মাইন্ড ব্লোইংয়ে আবাহনী অনেক অনেক এগিয়ে সাফল্য কামনা করি। আজকে মাইন্ড ব্লোইংয়ের উপর আত্মস্থ রেখে মাঠে খেলতে নেমেছিল আবাহনীর খেলোয়াড়েরা। তবে একবার চিন্তা করে দেখুন এপ্রিল ২৫ দলে একটাও বিদেশী খেলোয়াড় নাই ওরা সবাই সেনাবাহিনীর সদস্য ।কাজেই ওদের মেধা কত শক্তিশালী সেটাই বোঝা যায়.ওরা আমাদের চেয়ে অনেক অনেক দূর এগিয়ে গেছে। আর আমাদের বাংলাদেশের ক্লাবে ২/৩ জন বিদেশীরা আছেন । যেহেতু এটাকে সম্পূর্ণ বাংলাদেশী খেলোয়াড়  ক্লাব হিসেবে ধরা যায় না! এখানেই দুই দলের মধ্যে মূল পার্থক্য সুস্পষ্ট!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here