সেই ইকবাল!সেই অবিস্মরণীয় গোল!স্মৃতিচারণে এলিস হক

0
71

 

দ্বিতীয়ার্ধের ১৭/১৮ মিনিটের মধ্যে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ ছিলো এবং বেশ মাঝে মধ্যে বেশ উত্তেজিত আক্রমণ। আক্রমণ রচনা হলেও এক পর্যায়ে বাংলাদেশ দলের জব্বার গোল করার সুযোগ পেয়েও দ্বিতীয়ার্ধের ১২ মিনিটের সময় তিনি গোল করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

যাহোক মাঝমাঠে বল পেয়েছে বাংলাদেশ সবুজ দল।বাংলাদেশ আক্রমণে,বাংলাদেশ দলের একজন খেলোয়াড় বল পেয়ে বাঁ প্রান্তে বল ঠেলে দিয়েছেন,বল দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে গিয়ে তিনি এগিয়ে এবারে তেমন মাটি কামড়ানো আহমেদের কিকটি তেমন জোরালো শট তেমন জোরালো নেই।আহমেদেও তেমন কোনো জোরালো ছিলো না,গোলরক্ষক দেবাশীষ মুখার্জিকে কোনো রকমে বল ধরতে বেগ পেতে হয়নি। তিনি অত্যন্ত সহজে বল তুলে নিয়ে সামনে বাড়িয়েছেন মনোরঞ্জনের কাছে,মনোরঞ্জন বল ধরে সামনে ঠেলে দিয়েছেন তার সহযোগী খেলোয়াড় সরাফ আলী।

দু’টি দলই প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় খেলায় খেলছেন।দ্বিতীয় খেলায় বাংলাদেশ সবুজ দল চীনের সঙ্গে খেলবে আর ভারতীয় দল দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে তাদের শেষ খেলায় অংশগ্রহণ করবে।

যে কথা বলছিলাম,ভারতীয় দলের সরাফ আলী বল পেয়ে উঁচু করে মেরে দিয়ে বাঁ দিকে ঠেলে দিয়েছিলেন কিন্তু তার পরবর্তী পর্যায়ে বাংলাদেশ সবুজ দলের ইকবাল বল পেয়ে সামনে মানিককে দিয়েছিলেন।এখন এ মুহুর্তে মানিক থেকে দিলীপের পায়ে বল,দিলীপ দেখে নিয়ে নীরাকে বল দিয়েছেন।নীরা আয়াজকে ঠেলে দিয়েছেন,আয়াজ-নীরা,নীরা-আয়াজ এভাবে বল এগিয়ে যাওয়ার মুহুর্তে হ্যান্ডবল ভারতীয় দলের।সত্যজিৎ হ্যান্ডবল করেছিলেন।একজন খেলোয়াড়ের ইতিমধ্যে ভারতীয় দলের বদল করেছেন।সুদীপ চ্যাটার্জির জায়গায় ডেরেক পেরেরা তাদের দলে নেমেছেন।

যাহোক সত্যজিৎ চ্যাটার্জিও হ্যান্ডবল।বল বসিয়ে রাখা হচ্ছে,ঠিক বৃত্তের কাছাকাছি থেকে ফ্রি কিক করবেন জুয়েল।বাংলাদেশ সবুজ দলের পক্ষে জুয়েল আস্তে করে বল ঠেলে দিয়েছেন রাইট ব্যাক দিলীপের কাছে দিলীপ কিক করেছেন সামনে বাড়িয়েছেন বল,মানিক বল ধরেছেন।এগিয়ে গিয়ে চলেছেন দিয়েছেন ঠেলেছেন বল নিয়ে একজন খেলোয়াড়কে কাটাবার চেষ্টা বল দিয়েছেন।কিন্তু ডানদিকে ঠেলে দিতে পারেননি।তিনি ঠিকমতো এ পর্যায়ে অবশ্য দ্রুত এগিয়ে গিয়ে লেফট ব্যাক মোকাবেলা করে বল মনোরঞ্জন বিপদমুক্ত করে সম্পূর্ণভাবে বল মাঠের বাইরে পাঠিয়ে দিয়েছেন কোনো দিকে না থাকলেও।

থ্রো ইন বাংলাদেশ সবুজ দলে।আয়াজ থ্রোইন করেছেন সামনে বাড়িয়েছেন দিয়েছেন…গো…..ও…..ল গোল……..বাংলাদেশ…….সবুজ দল……গোল…….করেছেন।

ইকবাল,ইকবাল দর্শনীয় হেডের মাধ্যমে ভারতীয় বড় ডি-এর বেশ কিছুটা বাইরে থেকে সত্যজিতের ফাউল হয়েছিলো।

সেই ফাউলের ফ্রি কিক থেকে আয়াজ লব বল তুলে দিয়েছিলেন।তখন ৩১ মিনিটের সময় ইকবাল ৩ নম্বর জার্সি পড়ে খেলছেন।ঐ সময় সুন্দরভাবে সাইডে গিয়ে বলের সাথে মাথায় লাগিয়ে দিয়ে গোলরক্ষক দেবাশীষ মুখার্জিকে দ্বিতীয়বারের মতো পরাজিত করেছেন দর্শনীয়ভাবে।

বাংলাদেশ সবুজ দল এখন ১-০ গোলে এগিয়ে গিয়ে।

আজকের গুরুত্বপূর্ণ খেলায় অভিজ্ঞ ভারতীয় দলের বিরুদ্ধে।খেলায় উত্তেজনার মুহুর্তে গোলরক্ষক আতিকের হাতে বল ৩১ মিনিটের সময় আয়াজ সুন্দরভাবে বল সেন্টার করে ইকবাল শূন্যে লাফিয়ে উঠে বলে মাথায় লাগালেন এবং সেই গোলের সুবাদে বাংলাদেশ সবুজ দল এখন ১-০ গোলে এগিয়ে।

এই খেলা উত্তেজনাপূর্ণ চমৎকৃত।এই খেলা ক্রীড়া নৈপূণ্য বাংলাদেশ সবুজ দলের তরুণ খেলোয়াড়দের কাছ থেকে দর্শকরা পেয়েছেন।এ পর্যন্ত অভিজ্ঞ খেলোয়াড় সমৃদ্ধ ভারতীয় দলের বিরুদ্ধে।১-০ গোলে এগিয়ে রয়েছে গোলদাতা স্টপার ইকবাল এ মুহুর্তে ভারতীয় দলের খেলোয়াড়রা বাংলাদেশ সবুজ দলের উপর চড়াও হয়ে খেলছেন।এ অবস্থায় ভাষ্যকারের পরিবর্তন আসছে মোহাম্মদ মুসা।

(বিশেষ দ্রষ্টব্য : ১৯৮৯ সালে ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ প্রেসিডেন্ট গোল্ডকাপ ফুটবল প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ জাতীয় সবুজ দল বনাম ভারতীয় জাতীয় দলের মধ্যকার খেলা হয়েছিল….সেই খেলায় অবিস্মরণীয় মুহূর্তে আয়াজের লব থেকে দর্শনীয় ভঙ্গিমায় হেড করে ভারতীয় দলের বিরুদ্ধে গোল করেন বাংলাদেশ সবুজ দলের রক্ষণভাগের খেলোয়াড় ইকবাল…..)

বাংলাদেশ সবুজ দলের হয়ে খেলেছিলেন-আতিক (অধিনায়ক), মুন, নীরা, ইকবাল, দিলীপ, জুয়েল, আয়াজ, টিটো, মানিক, আহমেদ এবং মিজান।

অতিরিক্ত খেলোয়াড়দের মধ্যে রয়েছেন গোলকিপার পনির, জুবায়ের নিপু, মোস্তফা বাবু, জব্বার এবং মুজিবর। দলের কোচ-সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকী লাভলু। ম্যানেজার-আরশাদ আলী মঙ্গল।

বাংলাদেশ বেতারে খেলার চলতি ধারাবিবরণী দিয়েছিলেন তৎকালীন দেশসেরা আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ধারাভাষ্যকার আবদুল হামিদ খান। খেলাটির টেপ রেকর্ড করেছিলাম আমি নিজেই।ধন্যবাদ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here