সংগঠকরা প্রতিভাবানদের সুযোগ করে দিলে তারা আলো ছড়াবেই – মিঠু

0
556

ব্রাজিলে বাংলাদেশ থেকে প্রশিক্ষন নিতে গিয়েছিলেন বাংলাদেশের চারজন কিশোর। প্রশিক্ষন নেয়ার পাশাপাশি নিজের খেলায় আলো ছড়িয়েছেন কুড়িগ্রামের ওমর ফারুক মিঠু। সদ্যই দেশে ফেরা এই খেলোয়াড় ব্রাজিলে খেলার অভিজ্ঞতা ও তার ভবিষ্যৎ লক্ষ্য নিয়ে কথা বলেছেন স্পোর্টস নিউজ বাংলাদেশের সাথে। আলাপচারিতার চুম্বক অংশ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-

প্রশ্ন : বিশ্বের অন্যতম দুই পরাশক্তি ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার ম্যাচ মাঠে বসে উপভোগ করে এলেন। ম্যাচটি দেখার অনুভূতি সম্পর্কে বলুন।

মিঠুঃ জন্মের পর থেকেই যখন ফুটবল বুঝতে শিখি তখন থেকেই ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা বুঝি। বলতে গেলে ফুটবল শিখার আগ থেকেই। আর ব্রাজিলের মাঠে বসে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার খেলা দেখা মানে গায়ের লোম দাড়ানো বিষয়। ম্যাচটি অনেক উপভোগ করেছি।

প্রশ্ন : ব্রাজিলে ম্যাচ খেললেন ও গোল করলেন। ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা কেমন ছিলো?

মিঠুঃ আমরা সেখানে মোট চারটি ম্যাচ খেলেছি। শুরু থেকেই তারা অনেক গুছিয়ে ফুটবল খেলে। আর আমরা ওদের ল্যাটিন স্টাইলে খেলার চেষ্টা করছিলাম। যদিও শুরুর দিকে আবহাওয়ার সাথে মানিয়ে নিতে একটু অসুবিধা হয়েছিল। আর আমরা প্রথম খেলায় ২-০ গোলে হেরেছিলাম।সেই ম্যাচে আমি গোল পাইনি। কিন্তুু কোচের আমার খেলা ভালো লাগায় তিনি পরের ম্যাচ গুলোতে আমাকে স্টাইকার পজিশনে খেলান এবং আমি দ্বিতীয় ম্যাচে গোল পাই এবং দলও জয় পায়। আর সেখানে খেলা হলেই লাইভ, কমেন্ট্রি থেকে শুরু গামার দর্শকরা মিথু মিথু বলে পাগল। কেননা তারা মিঠু উচ্চারণ করতে পারছিলোনা। আমি চার ম্যাচে দুই গোল পাই ও ম্যাচ সেরাও হই একটি ম্যাচে। সেখানে আমাদের দল চ্যাম্পিয়ন হয়।

প্রশ্ন : ব্রাজিলের ক্লাবে প্র্যাকটিসের সাথে আমাদের দেশের প্র্যাকটিসের পার্থক্য কি লক্ষ্য করলেন?

মিঠুঃ অনেক পার্থক্য রয়েছে। ওদের একেকটা ক্লাব বা একাডেমি ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতিতে চলে। তবে একটা জিনিস লক্ষ্যনীয় যে গোটা দেশেই তারা ছোট থেকে ল্যাটিন পদ্ধতিতে ফুটবল প্রশিক্ষণ। মানে কঠিন জায়গা থেকে খেলা বের করে আনতে শেখায়। আর আমাদের এখানে ফুটবল কোন নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে শেখানো হয়না। একেক জায়গায় একেক রকম শিক্ষা দেয়া হয়। তাছাড়া ওদের আবহাওয়া ততটা গরম না। একদম ফুটবল খেলার উপযোগী। এছাড়া তাদের অভিভাবকরা অনেক আগ্রহী। তারা নিজেরাই তাদের সন্তানদের মাঠে প্র্যাকটিসের জন্য নিয়ে আসেন।

প্রশ্ন : বয়সভিত্তিক খেলোয়াড়দের উঠে আসার জন্য তারা কি ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করে যা আমাদের দেশেও হওয়া উচিত বলে আপনি মনে করেন?

মিঠুঃ ব্রাজিলে অনেক ছোট ছোট একাডেমি রয়েছে। যেখানে আট বছরের শিশু ফুটবলারদের প্রশিক্ষন দেয়া হয়ে থাকে। ওরা এমন না যে ১৪ বছর কিংবা ১৮ বছরের ছেলে মেয়েদের ফুটবলার বানানোর জন্য প্রশিক্ষন দেয়। ফুটবলারের পায়ের সেপ তারা ছোট থাকতেই তৈরি করে নেয় এবং ১০, ১২, ১৪, ১৬, ১৮ বছরের খেলোয়াড়দের লীগ খেলার ব্যবস্থায় ধারাবাহিকতা রাখে যা আমাদের দেশে খুবই জরুরি।

প্রশ্ন : এই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে আপনার লক্ষ্য কী?

মিঠুঃ লক্ষ্য বলতে বাংলাদেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করতে চাই। এখনো অনেক কিছু শেখার বাকি আছে। আমরা যারা খেলোয়াড় তাদেরকে সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে নিজেদের প্রতিভা দেখানোর। খেলোয়াড়েরা তাদের নৈপুণ্য দেখিয়ে একটি লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য সংগঠকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ । সংগঠকরা প্রতিভাবানদের সুযোগ তৈরি করে দিলে তারা আলো ছড়াবেই।

প্রশ্নঃ এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের কোন ক্লাব কর্তৃপক্ষ আপনার সাথে যোগাযোগ করেছেন কিনা?

মিঠুঃ এখন পর্যন্ত কোন ক্লাব এর কারো সাথেই আমার কথা হয়নি। সবে মাত্র দেশে ফিরলাম। তবে ব্রাজিল সফরের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আমি পেশাদারী লীগ খেলার জন্য এখন থেকেই নিজেকে প্রস্তুুত করছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here