শুভ জম্মদিন শচীন রমেশ টেন্ডুলকার

0
68

স্টাফ রিপোর্টারঃ ২৪ এপ্রিল ১৯৭৩ ভারতের মহারাষ্ট্রের বোম্বে শহরে জন্মগ্রহন করেন ভারত ও বিশ্ব ইতিহাসের সেরাদের মধ্যে একজন শচীন রমেশ টেন্ডুলকার। তাকে অনেকে আবার মাস্টার ব্লাস্টার এবং লিটল মাস্টার নামেও চিনে।

১৯৮৮ সালে থেকেই নিয়মিত ক্রিকেটে ছিলেন শচীন টেন্ডুলকার। কে জানত মাত্র ১৬ বছর বয়সেই ভারতীয় টেস্ট দলে অভিষেক হবে তার? শচীনের ক্রিকেটের স্বপযাত্রায় তার সবচেয়ে বড় সঙ্গী ছিলেন বড় ভাই অজিত টেন্ডুলকার। শচীনের ক্রিকেটের প্রায় সবকিছুতেই ছিলেন অজিত।শচীনের প্রিয় কোচ ছিলেন ভারতের রমানাথ পার্কের আচরেকার। আচরেকার তখনকার সময়ের অনেক জনপ্রিয় ছিলেন। রমানাথ পার্কে খেলে তার ৬ ছাত্র জাতীয় দলের হয়ে টেস্ট খেলেছিলেন এবং রন্জি খেলেছেন অনেকে। আচরেকারের প্রথম দেখায় শচীনকে পছন্দ হয়নি। তিনি কোনো মন্তব্য না করেই চলে গিয়েছিলেন। পরে বলেছিলেন প্রথম দেখায় শচীনকে পছন্দ না হওয়ার কথা। ১৯৮৪ সাল থেকেই অাচরেকারের কাছেই ক্রিকেট শিখেছেন শচীন। প্রথমদিন ভালো না গেলেও আস্তে আস্তে ভালো করতে শুরু করেন শচীন। ততদিনে আচরেকারও চার মধ্যে কিছু খুজে পেয়েছিলেন। শচীনকে তিনিই সবসময় চারে ব্যাটিং করাতেন। শচীনের জীবনের প্রথম দুই ম্যাচেই তিনি শূ্ন্য রানে আউট হয়েছিলেন। প্র্যাকটিস ম্যাচ ছিলো দুইটিই। শচীনকে ম্যাচ দুইটিতে দেখার পর তার কোচ আচরেকার তাকে কামাট মেমোরিয়াল ক্রিকেট ক্লাবে ভর্তি করিয়েছেন দেন। যেখানে ভর্তি ফি ছিলো ৬৫ রুপি এবং মাসিক ফি ছিলো ১০ রুপি। কিন্তু পরে তার স্কুল পরিবর্তন করা হয়। তাকে শারদাশ্রম বিদ্যামন্দিরে ভর্তি করানো হয় যা তখনকার স্কুল ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন ছিলো। তখনকার সময় কেউই হয়তো চাইতো না নিজের সন্তান ক্রিকেটার হোক কারন কোনো সম্ভবনাই ছিলো না। কিন্তু এই দিক থেকে শচীনের বাবা মা ছিলো ভিন্ন। তারা দেখতে পেয়েছিলেন তাদের সন্তানের মধ্যে ক্রিকেটের কিছু তো আছে। শচীনের জন্য তারা ক্রিকেট কিট কিনতে পারছিলেন না। বাবা অধ্যাপক ছিলেন আর মা রজনী ছিলেন একটি বিমা কোম্পানীর কেরানি। অনেক কিছুর পর টাকা জোগার হলে শচীন আর অজিতকে নিয়ে তাদের বাবা কিট কিনতে গিয়েছিলে। শচীন দোকানে প্রথম ডুকেই একটি ভারূ ব্যাট পছন্দ করেছিলো। যা সাধারনত হতো না। এইরকম ওজন ব্যাট দিয়েই শচীন পুরো ক্যারিয়ার ক্রিকেট খেলেছেন। সাধারনত ব্যাটসম্যানরা এক কিলোগ্রামের ব্যাট ব্যবহার করতো সেখানে শচীন দেড় কিলোগ্রামের ব্যাট ব্যবহার করতো। যা তিনি তার পুরো ক্যারিয়ারেই করেছিলেন। তার টেনিস এলবো ইন্জুরির সময় এই ভারী ব্যাটকেই দায়ী করা হয়েছিলো। ভারতের স্কুল ক্রিকেট ছিলো তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতামুলক। সেসময় দুটি টুর্নামেন্ট হতো একটি অনূর্ধ্ব-১৫ জাইলস শিল্ড এবং অন্যটি অনূর্ধ্ব-১৭ হ্যারিস শিল্ড। শারদাশ্রমের হয়ে শচীল জাইলস শিল্ডের জন্য দলে সুযোগ পেয়েছিলেন। স্কুলের জন্য প্রথম ম্যাচে তিনি ২৪ রান করেছিলেন। এই টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনালে ১০ চারে প্রথম অর্ধশতক করেছিলেন শচীন। ১৯৮৭ সালে এই দুটি টুর্নামেন্টে রানের বন্যা বইয়ে দিয়েছিলেন শচীন।সুযোগ পেয়েছিলেন মুম্বাই অনূর্ধ্ব-১৫ দলে যেখানে অভিষেক ম্যাচেই ১২৩ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। শচীন মাত্র ১২ বছর বয়সেই বোম্বে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের অনূর্ধ্ব-১৯ কোচিং ক্যাম্পে ট্রায়াল দিতে গিয়েছিলেন। বারো বছর হওয়ায় তাকে দলে নেয়া হয়নি। শচীনের কোনোদিন অনূর্ধ্ব-১৯ হয়ে খেলার সুযোগই হয়নি। ১৫ বছর বয়সেই ফার্স্টক্লাস খেলেছিলেন এবং ১৬ বছর বয়সেই তিনি টেস্টে অভিষেক করেছিলেন। ১৯৮৯ জানুয়ারীতে পাকিস্তান সফরে অনূর্ধ্ব-১৯ দলে তার নাম থাকলেও পরীক্ষার জন্য তিনি যেতে পারেনি। এই রান বন্যার পর উপমহাদেশের সবচেয়ে বনেদি ক্রিকেট ক্লাব সিসিআই (ক্রিকেট ক্লাব অব ইন্ডিয়া) তাকে দলে নেয়ার জন্য নিয়মে পরিবর্তন আনেন। তখন নিয়ম ছিলো ১৮ বছরের নিচে কেউ সিসিআই এর প্যাভিলিয়নে আসতে পারবে না। কিন্তু শচীনের জন্য তা পরিবর্তন করে তারা। মাত্র ১৪ বছর বয়সেই তিনি সিসিআইতে আসেন। সেই বছর মুম্বাইয়ের রন্জি ট্রফির ১৪ জনের দলে ছিলেন ১৪ বছর বয়সী ক্রিকেটার শচীন। সেবছর কোনো ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি তিনি। ১৯৮৮ সালে মুম্বাইয়ের হয়ে গুজরাটের বিপক্ষে রন্জিতে অভিষেক হয় শচীনের। ১৫ বছর ৭ মাস ১৭ দিন বয়সে শতক করেছিলেন শচীন। রন্জিতে তা ছিলো সবচেয়ে কম বয়সে শতক। শচীনের ক্যারিয়ারে সুনীল গাভাস্কার সবসময় তার সঙ্গী ছিলেন ছায়া ছিলেন। ১৯৮৭ সালে বিশ্বকাপে ভারত জিম্বাবুয়ে ম্যাচে শচীন বল বয় ছিলেন। ম্যাচ শেষে তাকে ভারতীয় ড্রেসিং রুমে নিয়ে গিয়েছিলেন সুনীল গাভাস্কার।

১৫ নভেম্বর ১৯৮৯ সালে ভারতের হয়ে টেস্টে অভিষেক হয়েছ্লো শচীনের। তাও আবার পাকিস্তানের সাথে। প্রথম তিনি পাকিস্তানের ওয়াসিম আকরামের বল খেলেছিলেন। বিশেষ কিছু না করতে পারলেও সবাই বুঝেছিলো এই ছেলে একদিন ক্রিকেট দুনিয়া কাপাবে। ১৮ ডিসেম্বর ১৯৮৯ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ওডিআই অভিষেক এবং ১ ডিসেম্বর ২০০৬ সালে টিটুয়েন্টিতে অভিষেক হয়েছিলো তার। তিনি তার ক্যারিয়ারে জাতীয় দলের হয়ে মাত্র একটি টিটুয়োন্টু খেলেছিলেন। শচীনের ক্যারিয়ারের পরিসংখ্যান দাড়া করানো খুবই কঠিন।

টেস্ট ক্রিকেটে তিনি ২০০টি ম্যাচ খেলেছেন। যেখালে ইনিংস ৩২৯টি। রান করেছেন ১৫৯২১ রান। সর্বোচ্চ ২৪৮ রান। ২৪৮ রানের তার সর্বোচ্চ ইনিংস তিনি বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলেছিলেন। ১০ ডিসেম্বর ২০০৪ সালে ঢাকায়। গড় ছিলো ৫৩.৭৮। ৫১ টি শতক এবং ৬৮টি অর্ধশতক ছিলো তার। তিনি ২০১৩ সালে ১৪ নভেম্বর নিজের ২০০ তম টেস্ট ম্যাচ এবং মূম্বাইয়ে নিজের ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ খেলেছিলেন।

ওডিআইতে তিনি মোট ম্যাচ খেলেছিলেন ৪৬৩টি যেখানে ইনিংস ছিলো ৪৫২টি। রান করেছিলেন ১৮৪২৬ রান। সর্বোচ্চ করেছিলেন ২০০। যা ছিলো ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম। গড় ছিলো ৪৪.৮৩। ৪৯টি শতক এবং ৯৬ টি অর্ধশতক করেছিলেন তিনি। ২০১০ সালে ২৪ ফেব্রুয়ারী গোয়ালিয়রতে দক্ষিন আফ্রিকার বিপক্ষে ২০০ রানের সর্বোচ্চ ইনিংসটি খেলেছিলেন তিনি। ১৮ মার্চ সেই পাকিস্তানেক বিপক্ষে শেষ ওডিআই খেলেছিলেন শচীন। শচীল টেস্টে মোট ১৪ বার ম্যান অব দ্যা ম্যাচ এবং ৫ বার ম্যান অব দ্যা সিরিজ হন। আর ওডিআইতে ৬২ বার ম্যান অব দ্যা ম্যাচ এবং ১৬ বার ম্যান অব দ্যা সিরিজ হন।

ওয়েস্ট ইন্জিজের সাথে নিজের শেষ টেস্ট গেলে ২৪ বছরের অসাধারন পথচলা তিনি বিদায় জানিয়েছিলেন। যেখানে বিদায় বক্তৃতায় সবাইকে কাঁদিয়েছিলেন। তার বক্তৃতার শেষে তিনি বলেছিলেন “আপনাদের সাথে আমার সব স্মৃতি রয়ে যাবে চিরদিন। বিশেষ করে শচীন শচীন ধ্বনি জীবনের শেষ:নিশ্বাস ফেলা পযর্ন্ত আমার কানে বাজবে। অনেক ধন্যবাদ। যদি কিছু ভুলে গিয়ে থাকি আশা করি আপনারা বুঝতে পারবেন। বিদায়”।

শুভ জম্মদিন ক্রিকেট ঈশ্বর। আজো ক্রিকেটের নাম গজে তুমি আছো। আছো লাখো ভক্তের মনের মধ্যে।

সাঈদ ইবনে সামস

তথ্য- “শচীনের রুপকথা” লেখক- উৎপল শুভ্র বই থেকে এবং উইকিপিডিয়া থেকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here