শিবদাস-অভিলাষদের থেকে প্রেরণা নিয়ে আজ মরুশহরে নয়া ইতিহাসের খোঁজে সুনীলরা

0
394

কলকাতা প্রতিনিধি: আগে আরব আমিরশাহি ম্যাচে ০-২ হারলে লোকে বলত দারুন রেজাল্ট , সেখানে আজ আফসোস করছে ম্যাচটা জিততে না পারার জন্য এটাই তো ভারতীয় ফুটবলে পরিবর্তনের ইঙ্গিত— কথা গুলো বলছিলেন জাতীয় কোচ স্টিফেন কনস্ট্যানটাইন। স্টিফেন বা তাঁর শিষ্যদের দেখে বোঝার উপায় নেই ৭২ ঘন্টা আগে প্রবল শক্তিশালী আরব আমিরশাহির বিরুদ্ধে জেতার মতো খেলেও তাঁদের হারতে হয়েছে। আমিরশাহি ম্যাচ নিয়ে সবধরনের ময়নাতদন্ত এখন আর কোনোভাবে ড্রেসিংরুমে ঢুকতে দিতে চান না ভারতের ব্রিটিশ কোচ।

আজ শারজায় টুর্নামেন্টের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মাঠে নামবেন সুনীলরা। যে ম্যাচটা ভারতের জন্য প্রকৃতপক্ষে ডু অর ডাই ম্যাচ। আজ বাহরিনকে হারাতে পারলেই ৫৫ বছর পর এশিয়ান কাপের নক আউটের টিকিট নিশ্চিত করে ইতিহাস গড়বে ব্লু টাইগার্সরা। ড্র করলেও অবশ্য ভারতের নক আউটে যাওয়া আটকাচ্ছে না। তবে ড্র শব্দটাকেই সুনীলদের ঘরে ঢুকতে দিতে চাননা কোচ স্টিফেন। অতীতে এমন বহু নিদর্শন পাওয়া যাবে যেখানে কোনো টিম ড্র করার মানসিকতা নিয়ে নেমে ম্যাচ হেরে গ্যাছে। সেকারনে বাহরিন বধ করেই শেষ ষোলোয় পা রাখা এখন একমাত্র লক্ষ্য কনস্ট্যানটাইনের। এমনিতে ফিফা ক্রমপর্যায়ে বাহরিন ভারতের থেকে ১৬ ধাপ পিছনে। বাহরিনের সাম্প্রতিক ফর্মও তেমন আশাব্যঞ্জক নয়। তবুও অতীতের পরিসংখ্যান কিছুটা হলেও চিন্তায় রাখছে সুনীল ছেত্রীদের।

সাত বারের মুখোমুখি সাক্ষাতে ভারত জিতেছে মোটে একবার , একবার ড্র ও পাঁচবার বাহরিন। আট বছর আগে ভারতের শেষ এশিয়ান কাপে বাহরিনের কাছে ৫-২ গোলে হারতে হয়েছিল সুনীলদের। তবে কোচ স্টিফেন অবশ্য এসব পরিসংখ্যানকে বিশেষ পাত্তা দিচ্ছেন না। তাঁর সাফ কথা অতীতের ভারতীয় টিম আর এই টিম কী এক? পরিবেশ পরিস্থিতির সঙ্গেও কী অতীতের সঙ্গে কোনো মিল আছে? তাহলে খামোখা পরিসংখ্যান নিয়ে মাথা ঘামাব কেন?

এই ম্যাচের প্রস্তুতিতে সুনীলদের বেশ কিছু বাহরিন ম্যাচের পুরনো ভিডিও ক্লিপিংস দেখিয়েছেন স্টিফেন। তাতে উঠে এসেছে বাহরিন দলের দূর্বলতা। যদিও সেসব নিয়ে মিডিয়ার সামনে মুখ খুলতে রাজি হলেন না তিনি। আমিরশাহি ম্যাচ ভালো খেলে হেরে যাওয়ায় সুনীলরা নাকি সেদিন হোটেলে ফিরে ঘুমোতেই পারেননি। দুঃস্বপ্নের মতো ফিরে ফিরে আসছিল ম্যাচের সেই গোল মিসগুলো। সেই ম্যাচের হতাশা থেকে টিমকে বের করে আনার জন্য ও টিমের মনোবল বাড়াতে নাকি টিম হোটেলে মোহনবাগানের ১৯১১-র ঐতিহাসিক আইএফএ শিল্ড জয়ের ক্লিপিং সুনীলদের দেখিয়েছেন কনস্ট্যানটাইন । কোচ বলেছেন দ্যাখো একশো বছর আগে এগারো জন ভারতীয় যদি বিদেশি দলকে হারিয়ে ইতিহাস গড়তে পারে তোমরাও পারবে। উদান্তারাও বলছেন কোনো রকম জটিল অঙ্ক তাঁদের মাথায় নেই। শুধু একটাই সহজ সমীকরন বাহরিনকে হারাও নক আউট নিশ্চিত করো। লেফট্ ব্যাক শুভাশিস বোসের কথাতেও ধরা পড়ল এক সুর। বলছিলেন আট বছর আগে টিভিতে বাবার সঙ্গে বাহরিন ম্যাচ দেখেছিলাম। হেরে যাওয়ায় খুব কষ্ট পেয়েছিলাম। এবার ওদের হারিয়ে তার বদলা নেব , আত্মপ্রত্যয় চুঁইয়ে পড়ছিল বঙ্গসন্তানের গলায়।

এমনিতে ব্রিটিশ কোচকে দেখে মনে হচ্ছে যেন এয়ার কন্ডিশনার মাথায় নিয়ে এশিয়ান কাপে এসেছেন এতোটাই হিমশীতল দেখাচ্ছে তাঁকে। জয় বা হার সবকিছুতেই তিনি নিরাবেগ , উচ্ছ্বাসহীন। থাইল্যান্ডে ৪-১ এ চূর্ন করেও যেমন উচ্ছ্বাসে ভাসতে দেখা যায়নি তেমনি আমিরশাহি ম্যাচে গোলের পর গোল নষ্টেও মেজাজ হারাননি স্টিফেন। স্টিফেন বলছেন আসলে আমাদের প্রাথমিক লক্ষ্য নক আউটে যাওয়া। যতক্ষন না অবধি সে লক্ষ্য পূরণ হচ্ছে কোনোরকম উচ্ছ্বাস দ্যাখাব না। বাহরিন ম্যাচ নিয়েও প্রবল আত্মবিশ্বাসী কোচ কনস্ট্যানটাইন। বললেন আমরা আমিরশাহি ম্যাচে হারলেও প্রচুর গোল নষ্ট করেছি। তার মানে প্রবলতম প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধেও আমরা গোলের সুযোগ তৈরি করতে পেরেছি। আমার বিশ্বাস আজও সুযোগ তৈরি হবে এবং গত ম্যাচের ভূল গুলো শুধরে নিয়ে আমাদের সুযোগের সদব্যবহার করতে হবে।

এদিকে আজ ভারতীয় দলের অধিনায়কের দায়িত্বে থাকবেন মিডফিল্ডার প্রণয় হালদার। গত বিশ্বকাপে ব্রাজিল কোচ তিতের মতোই এশিয়ান কাপে ভারতের এক এক ম্যাচে এক এক জনকে অধিনায়কের দায়িত্ব দিচ্ছেন কোচ স্টিফেন। সেই ধারাবাহিকতায় গুরপ্রীত , সুনীলের পর আজ অধিনায়কের আর্মব্যান্ড উঠছে এক বঙ্গসন্তানের হাতে। ১৯১১-য় এগারো বাঙালির ইতিহাস সৃষ্টি থেকে প্রেরণা নিয়ে আজ আর এক বাঙালির নেতৃত্বে মরুশহরে নয়া ইতিহাস রচিত হয় কীনা সেদিকেই তাকিয়ে আসমুদ্রহিমাচল।

আজ টিভিতে

ভারত বনাম বাহরিন রাত ১০টায় (বাংলাদেশ সময়)

সরাসরি স্টার স্পোর্টস ২,৩ ও জলসা মুভিজে”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here