রিয়াদ-সাকিবে স্বস্তির দিন বাংলাদেশের

0
395

 

অভিষিক্ত সাদমান ইসলাম আর অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের হাফসেঞ্চুরিতে মিরপুর টেস্টের প্রথম দিনে ৫ উইকেটে ২৫৯  রান সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ। ৭৬ রানের ঝলমলে ইনিংস উপহার দিয়েছন ওপেনার সাদমান। ষষ্ঠ উইকেটে সহ-অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের সঙ্গে নিরবিচ্ছিন্ন ৬৯ রানের জুটি গড়ে টাইগারদের বড় সংগ্রহের পথে নিয়ে যাচ্ছেন সাকিব।  মাহমুদউল্লাহ ৩১ আর সাকিব ৫৫ রানে অপরাজিত আছেন।

চট্টগ্রাম টেস্ট জিতে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশ মিরপুরে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয়। সাদমানকে নিয়ে দলকে উড়ন্ত সূচনা এনে দিয়েছিলেন সৌম্য সরকার। কিন্তু স্কোরবোর্ডে ৪২ রান যোগ করার পর ব্যক্তিগত ১৯ রানে রস্টন চেজের বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন এই বাঁহাতি। এ নিয়ে টানা ১০ ইনিংসে ব্যর্থ সৌম্য। ফিফটি দূরে থাক কোনো চল্লিশোর্ধ্ব ইনিংসও উপহার দিতে পারেনি তিনি।

দ্বিতীয় উইকেটে মুশফিকের সঙ্গে জুটি বেঁধে বাংলাদেশের ইনিংসটা এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন সাদমান। তবে লাঞ্চের ঠিক আগের বলে মুমিনুলকে (২৯) তুলে নিয়েছেন ক্যারিবীয় পেসার কেমার রোচ। মুমিনুলের আফসোসই হবে। চমৎকার ব্যাটিং করছিলেন। কিন্তু একটা বাজে শটেই শেষ হয়ে গেল সব। রোচের স্লো ডেলিভারিতে লুজ শট খেলে চেজের হাতে ধরা পড়েন মুমিনুল। দলীয় ৮৭ রানে দ্বিতীয় উইকেটের পতন হয়।

লাঞ্চের পর নতুন সঙ্গী মিথুন আলীকে নিয়ে ইনিংস গড়ায় মনোযোগ দেন সাদমান। তৃতীয় উইকেট জুটিতে তারা যোগ করেন ৬৪ রান। কিন্তু উইকেটে থিতু হয়েও নিজের ইনিংসটা বড় করতে পারেননি মিথুন। দলীয় ১৫১ রানে  দেবেন্দ্র বিশুর বলে শট খেলতে গিয়ে সরাসরি বোল্ড হন তিনি। ফেরার আগে ৬১ বলে ২৯ রান করেন এই ডানহাতি।

মিথুন ফেরার পর স্কোরবোর্ডে আর ১০ রান যোগ করতেই চতুর্থ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। সেই বিশুর বলেই এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে পড়েন সেঞ্চুরির পথে এগোতে থাকা সাদমান। ফেরার আগে ১৯৯ বলে ৭৬ রানের ইনিংস উপহার দিয়ে গেছেন সাদমান। যতক্ষণ ক্রিজে ছিলেন, খেলেছেন পুরোপুরি টেস্ট মেজাজে। মাত্র ৬টি চার মেরেছেন এই বাঁহাতি। বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের পক্ষে সবচেয়ে কম স্ট্রাইকরেট ছিল তার। অন্যরা যেখানে ৪৫-এর ওপর স্ট্রাইকরেটে ব্যাট চালিয়েছেন, সাদমানের স্ট্রাইকরেট সেখানে ৩৮.১৯।

সাদমানের ব্যাটিং স্টাইল দেখে কেউ তাকে ‘নতুন তামিম’ কেউবা ভারতের শিখর ধাওয়ানের সঙ্গে তুলনা করছেন তাকে। ওপেনিংয়ে দীর্ঘদিন ধরে যোগ্য সঙ্গী পাচ্ছেন না তামিম। ইমরল-সৌম্যরা আসা যাওয়ার মাঝে আছেন। এই জায়গায় স্থায়ী সমাধান হতে পারেন সাদমান। তার অভিষেক ইনিংস দেখে সে আশা করাই যায়।

দ্রুত দুই উইকেট হারিয়ে কিছুটা ব্যাকফুটে চলে গিয়েছিল বাংলাদেশ । তবে চা বিরতির আগ পর্যন্ত আর কোনো বিপদ হতে দেননি সাকিব-মুশফিক। বিরতির বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে ৪ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন মুশফিক। তার আগে এই কীর্তিতে নাম লিখিয়েছেন তামিম ইকবাল। এদিন তামিমকে ছাড়িয়ে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের স্থানটি নিজের করে নিতে পারতেন মুশফিক। কিন্তু ব্যাক্তিগত ১৪ রানে পেসার শেরমন লুইসের বলে সরাসরি বোল্ড হন তিনি। দলীয় ১৯০ রানে টাইগাররা হারায় পঞ্চম উইকেট।

সেখান থেকে নতুন করে ইনিংস মেরামতের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন অধিনায়ক সাকিব। সহ-অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে নিয়ে দিনের বাকিটা সময় তিনি কাটিয়ে দিয়েছেন নির্বিঘ্নেই। ক্যারিয়ারের ২৪তম হাফসেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন এই বাঁহাতি। মাহমুদউল্লাহ খেলছেন চমৎকার। শনিবার দ্বিতীয় দিনে তাদের কাছ থেকে আরও ভালো কিছু প্রত্যাশা করবে বাংলাদেশ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here