বিশ্বকাপে নিজেকে প্রমানের চ্যালেঞ্জ সাব্বিরের

0
40

 

আছিফ উদ্দিন জয়: দরজায় কড়া নাড়ছে বিশ্বকাপ ক্রিকেট ২০১৯। বিগত যেকোনো আসরের থেকে এবারের আসরে টাইগারদের উপর প্রত্যাশাটা অনেক বেশি সমর্থকদের। সেই প্রত্যাশা পূরণ করার দায়িত্ব নিয়ে যে ১৫ জন ক্রিকেটার যাচ্ছে লাল-সবুজের প্রতিনিধি হয়ে বিশ্বমঞ্চ মাতাতে তাদের নিয়ে স্পোর্টস নিউজ বাংলাদেশের ধারাবাহিক পনেরো প্রতিবেদনের ষষ্ঠ প্রতিবেদনে আজ থাকছে হার্ডহিটিং ব্যাটসম্যান সাব্বির রহমানের কথা।

বর্তমান বাংলাদেশ বিশ্বকাপ স্কোয়াডে যে তিনজন স্বভাবতই মারমুখী ব্যাটসম্যান রয়েছেন তাদের মধ্যে অন্যতম একজন হলেন সাব্বির রহমান। ২২ নভেম্বর ১৯৯১ সালে রাজশাহীতে জন্ম নেয়া এই ক্রিকেটার অনূর্ধ্ব-১৯ দল ও ঘরোয়া ক্রিকেটে তার ব্যাটিং স্টাইল আর পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নজরে আসেন নির্বাচকদের। টি-টোয়েন্টি স্পেশালিষ্ট হিসেবে বিবেচিত সাব্বিরের দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে হাতেখড়ি হয় ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ দিয়ে। একই বছরের শেষের দিকে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দলে একজন ফিনিশারের অভাব মিটাতে সাব্বিরকে সুযোগ দেয়া হয় ওয়ানডেতে। যে কিনা ইনিংসের শেষের দিকে রান তুলতে পারে খুব দ্রুত।

ওয়ানডেতে শুরুটা ভালো হওয়ায় মাত্র কয়েক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা নিয়েই সাব্বির সুযোগ পান ২০১৫ অস্ট্রেলিয়া -নিউজিল্যান্ড বিশ্বকাপে। সেই বিশ্বকাপের শেষের দিকে সাব্বির ৬ ইনিংস থেকে ১৮২ রান সংগ্রহ করে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ রাখার চেষ্টা করেন এই ব্যাটসম্যান।

এরপর থেকেই বাংলাদেশ দলের নিয়মিত সদস্য হয়ে যান সাব্বির । ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি সাব্বিরের ফিল্ডিংও দলে ভূমিকা রাখে বেশ খানেকটা। সম্ভবত বাংলাদেশ দলের সেরা ফিল্ডার ভাবা হয় সাব্বিরকেই। যার কিন একটা অসাধারণ ক্যাচ অথবা একটা দারুণ রানআউট করে ম্যাচের মোড় ঘুরানোর সক্ষমতা রয়েছে।

তবে শুরুতে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ যেভাবে দিয়েছিলেন সাব্বির সেটা ধরে রাখতে পারেননি এই ক্রিকেটার মাঝে দলে তিন নাম্বার পজিশনে ব্যাট করার সুযোগ পেলেও সেটাকে কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। পাশাপাশি খুব তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে উইকেট দিয়ে আসার প্রবণতাও রয়েছে সাব্বিরের।

এখন পর্যন্ত সাব্বির আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ওয়ানডে খেলেছেন ৬১টি। ৬১ টি ম্যাচ থেকে সাব্বিরের সংগ্রহ ১২১৯ রান। যেখানে ২৫.৯৪ গড় তার ব্যাটিং সামর্থ্যের সাথে মানানসই না দেখালেও ৯১.৫২ এর স্ট্রাইক রেট তার পক্ষে কথা বলে। কারণ বাংলাদেশ দলে সাব্বির যে পজিশনে বিশ্বকাপে খেলবেন সেখানে দল তার থেকে দ্রুত গতিতে রান তোলাটাই আশা করে।

ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বোলিংয়েও হাত ঘোরাতে পারেন সাব্বির। বাংলাদেশ দলের লেগ স্পিনারের অভাবটা মেটানোর জন্য তাকে সম্ভাব্য হিসেবেও বিবেচনা করে টিম ম্যানেজমেন্ট। যার থেকে অন্তত দলের খুব বেশি প্রয়োজনে কয়েক ওভার বোলিং সাপোর্ট পাওয়া যাবে। ৬১ ওয়ানডে থেকে ৬.৭২ ইকোনমিতে সাব্বিরের উইকেট সংখ্যা ৩।

তবে মাঝে বেশ কয়েকবার নানান কর্মকান্ডে বিতর্কিত হয়েছিলেন সাব্বির। গতবছর ৬ মাসের জন্য নিষিদ্ধও হয়েছিলেন দল থেকে। তবে বছরের শুরুতে পাঁচ মাস নিষিদ্ধ থাকার পর নিউজিল্যান্ড সফরের আগে কন্ডিশন আর তার যায়গায় সুযোগ পাওয়া বাকিরা ঐভাবে পারফর্ম না করায় আবারও দলে অন্তর্ভুক্ত হন সাব্বির। দলে ফিরে এসে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ আবারও রাখার চেষ্টা করেন এই ব্যাটসম্যান। দল নিউজিল্যান্ড সিরিজ হারলেও শেষ ওয়ানডে ম্যাচে দলের বিপর্যের সময় নেমে
করেছিলেন নিজের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি।

বিশ্বকাপে সাব্বিরের ব্যাটিংয়ের উপর আলাদা ভাবে তাকিয়ে থাকবে দল ও সমর্থকরা। যে কিনা ব্যাটিংয়ের সময় শেষ দিকে দলের রান দ্রুত বাড়াতে অথবা রানতাড়া করার সময় ফিনিশারের কাজটা ভালোভাবেই করতে পারবেন। সাব্বিরের উপর এমনটাই প্রত্যাশা দল ও সমর্থকদের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here