বিদায়ী ম্যাচে রুনিকে জয় উপহার দিল সতীর্থরা

0
187
রুনিকে গার্ড অব অনার দিচ্ছেন দুই দলের ফুটবলাররা। ছবি: ইন্টারনেট

দুই পাশে দাঁড়িয়ে আছেন ইংল্যান্ড ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলাররা। মাঝ খান দিয়ে সন্তানদের নিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ গোলদাতা (৫৩ গোল) ওয়েইন রুনি। হাত তালি দিচ্ছেন দুই দলের ফুটবলাররা। সঙ্গে ওয়েম্বলির গ্যালারিতে থাকা দর্শকরাও। ক্যারিয়ারে শেষবারের মতো ইংল্যান্ডের জার্সি গায়ে খেলতে নামছেন ওয়েইন রুনি। ম্যাচের ৫৮তম মিনিটে লিনগার্ডের বদলি হিসেবে মাঠে নামেন তিনি। সঙ্গে সঙ্গেই ওয়েম্বলিতে ‘রুনি, রুনি’ গর্জন উঠে। বিদায়ী তারকাকে অভিবাদন জানাতে থাকে ইংলিশ সমর্থকরা। ম্যাচের মধ্যেই মাঠে ছুটে আসে ভক্ত। জড়িয়ে ধরে রুনিকে।

বৃহস্পতিবার ক্যারিয়ারের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচে গোল করতে পারেননি রুনি। তবে রুনি গোল না পেলেও সতীর্থরা দারুণ এক জয় উপহার দিয়েছে তাকে। ৩-০ গোলে যুক্তরাষ্ট্রকে হারিয়েছে ইংল্যান্ড। দলের পক্ষে একটি করে গোল করেছেন লিনগার্ড (২৫), আলেক্সান্ডার আর্নল্ড (২৭) এবং উইলসন (৭৭)। বিদায়ী ম্যাচে ওয়েইন রুনিই ছিলেন অধিনায়ক। শেষবারের মতো তাকে অধিনায়কত্ব করার সুযোগ করে দেন কোচ সাউথগেট।

দর্শকদের অভিনন্দনের জবাব দিচ্ছেন ওয়েইন রুনি। ছবি: ইন্টারনেট

ম্যাচ শেষে ওয়েইন রুনি বলেন, ‘আমার মতে, ইংল্যান্ড এখন খুব যোগ্য একজন কোচের অধীনে আছে। যেভাবে তিনি কোচিং করাচ্ছেন তা সত্যিই অসাধারণ। এই তরুণ দলটার ভবিষ্যত অনেক ভাল বলেই আমার মনে হয়।’ এই দলটাই একদিন ইংল্যান্ডে বিশ্বকাপ ট্রফি ফিরিয়ে আনবে বলে মনে করেন রুনি। আর নিজের বিদায়ী ম্যাচ নিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা আমার মনে থাকবে দীর্ঘসময়। এই বিষয়টা নিয়ে (ফেয়ারওয়েল ম্যাচ) অনেক বিতর্ক হয়েছে। তবে আমার কাছে মনে হয় ইংল্যান্ডের হয়ে কেউ কিছু অর্জন করলে তাকে এভাবেই বিদায় জানানো উচিত।’ ম্যাচটা শুরুর আগে রুনিকে সোনার থ্রী লায়ন ব্যাজ উপহার দেন বর্তমান অধিনায়ক হ্যারি কেইন। রুনির অনুরোধেই কেইনের হাত দিয়ে উপহারটা তুলে দেয় ইংল্যান্ড। এর কারণ হিসেবে রুনি বলেন, ‘আমিই অনুরোধ করেছিলাম হ্যারি কেইনকে। কারণ, আমার মনে হয় একদিন গোলের রেকর্ডটা কেইনই ভেঙ্গে দিবে।’

রুনিকে ম্যাচ শেষে অভিনন্দন জানালেন যুক্তরাষ্ট্রের গোলরক্ষক ব্র্যাড গুজানও। ছবি: ইন্টারনেট

ওয়েইন রুনি ২০০৩ সালের ফেব্র“য়ারিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অভিষিক্ত হন ইংল্যান্ডের জার্সিতে। এরপর থেকে নিয়মিত ছিলেন তিনি দলে। ২০১৫ সালে তিনি ববি চার্লটনকে (৪৯) ছাড়িয়ে ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ গোলদাতা হন। সর্বশেষ ২০১৬ সালের নভেম্বরে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের জার্সি গায়ে মাঠে নেমেছিলেন তিনি। ২০১৭ সালেই আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানান এই ইংলিশ গ্রেট। তবে চলতি মাসের শুরুর দিকে ইংল্যান্ডের জার্সি গায়ে ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ খেলার ব্যাপারে সম্মত হন রুনি। যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে এই প্রীতি ম্যাচটার নামই হয়ে গিয়েছিল ‘দ্য ওয়েইন রুনি ফাউন্ডেশন ইন্টারন্যাশনাল’।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here