বাংলাদেশের জান,বাংলাদেশের প্রান

0
180

আসিফ উদ্দিন জয়: ১৯৮৭ সালের ২৪ মার্চ মাগুরায় জন্ম নেন ছোট্ট শিশু। কিন্তু কে জানতো সে ছেলেটিই হবে আজকের বাংলার জান বাংলার প্রাণ সাকিব আল হাসান।

বাবা মা শুরুর রেজা খুলনা বিভাগীয় দলের হয়ে খেলতেন ফুটবল তাই ছেলের ফুটবল খেলা নিয়েও ছিলোনা তার আপত্তি। তবে আপত্তির জায়গাটা ছিল ক্রিকেট নিয়ে। তাই বাবার অগোচরেই ক্রিকেট খেলে যেতেন সাকিব।

সময়টা ২০০১ আম্পায়ার সাদ্দাম হোসেনের নজরে আসেন সাকিব। তার পরামর্শেই মাগুরার ইসলামপুরের ক্লাবে যোগ দেন সাকিব। পরবর্তীতে বিকেএসপির প্রতিভা অন্বেষণে মাগুরার হয়ে নড়াইলের ক্যাম্পে ডাক পান সাকিব। সেখান থেকে মাত্র ২০ জন ঢাকায় আসে মূল ক্যাম্পে।

তবে প্রথমে বাবা রাজি না থাকলেও সেই সময়কার বিকেএসপির প্রশিক্ষক আশরাফুল ইসলাম ও আম্পায়ার সাদ্দাম হোসেনের পরামর্শে ছেলেকে বিকেএসপিতে ভর্তি করাতে রাজি হয় বাবা মাশরুর রেজা।

সেখান থেকেই শুরু। মাত্র ১৫ বছর বয়সেই সাকিব সুযোগ পান অনূর্ধ্ব -১৯ জাতীয় দলে। সুযোগ পেয়ে নিজের জাত চিনাতে ভুল করেননি সাকিব। অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে ১৮ ম্যাচ থেকে ৩৫ গড়ে ৫৬৩ রানের পাশাপাশি বল ঘুরিয়ে নেন ১৮ উইকেট। অনূর্ধ্ব -১৯ দল থাকতেই পারফরম্যান্স দিয়ে নজর কাড়েন সবার। তাই জাতীয় দলের হয়ে খেলার সুযোগটাও হাতছানি দিতে থাকে সাকিবের সামনে।

২০০৬ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজে বাংলাদেশ স্কোয়াডে প্রথমবারের মতো ডাক পান সাকিব। ৬ আগস্ট ২০০৬ লাল-সবুজের জার্সি গায়ে প্রথম বারের মতো মাঠে নেমেছিলেন সাকিব৷ ব্যাট হাতে ৩০ রান করার পাশাপাশি বল হাতে নিয়েছিলেন এক উইকেট। সেই থেকেই শুরু। যেন বাংলাদেশের হয়ে বিশ্ব ক্রিকেটে নিজের আগমনী বার্তা দিয়ে রেখেছিলেন সাকিব।

অভিষেকের পরের বছর সাকিব জায়গা করে নেন বিশ্বকাপ স্কোয়াডে। ঐতিহাসিক ভারত বদের সেই ঐতিহাসিক ম্যাচে ১ উইকেট নেয়ার পাশাপাশি ব্যাট হাতে সাকিব করেছিলেন অর্ধশত রান। বিশ্বকাপ পরবর্তী ভারত সিরিজে টেস্ট স্কোয়াডে প্রথমবারের মতো ডাক পান সাকিব। একই বছরের সেপ্টেম্বরে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও দলে সুযোগ করে নেন সাকিব। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে সুপার এইটে যাওয়ার ম্যাচে সাকিব বল হাতে নিয়েছিলেন ৩৪ রান খরচায় ৪ উইকেটে।

২০০৮ সালে বাংলাদেশ সফরে এসেছিল নিউজিল্যান্ড। চট্টগ্রামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচে ৩৮ রান খরচায় ৭ উইকেট নিয়েছিলেন সাকিব যেটি এখন পর্যন্ত তাঁর ক্যারিয়ারের সেরা টেস্ট বোলিং ফিগার। একই ম্যাচে বাংলাদেশ হারলেও দলের বিপর্যয়ে ব্যাট হাতে ১০৮ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলেছিলেন মিস্টার অলরাউন্ডার।

২০০৯ বিশ্বকে চমকে প্রথমবারের মতো বিশ্ব সেরা হওয়ার কৃতিত্ব দেখান সাকিব। তাঁর হাত ধরেই দেশের ক্রিকেটে বিশ্বসেরা তকমাটা প্রবেশ করে। একই বছরে মাশরাফি বিন মর্তুজার নেতৃত্বে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে গিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে প্রথম টেস্টেই মাশরাফি ইনজুরিতে পড়লে অধিনায়কত্বের দায়িত্ব দেয়া হয় সাকিবের কাঁধে। দায়িত্ব নিয়ে হতাশ করেনি। তার নেতৃত্বে প্রথম বারের মতো ক্যারিবিয়ানদের তাদের মাঠেই টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজে হারিয়েছিল টাইগাররা। পরের সিরিজে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও তাদের মাঠে সাকিবের অধিনায়কত্বে সিরিজ জিতে বাংলাদেশ।

২০১০ সাল সাকিবের নেতৃত্বে দেশের ক্রিকেটে আসে অন্যতম দারুণ একটা সাফল্য। প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডেকে ঘরের মাঠে ওয়ানডে সিরিজ হোয়াইট ওয়াশ করেছিল টাইগাররা। ৫ ম্যাচের সিরিজের ১ ম্যাচ বৃষ্টির জন্য পরিত্যক্ত হলেও বাকি ৪ ম্যাচ জিতে বাংলাদেশ। ৪ ম্যাচ থেকে ২১৩ রান করার পাশাপাশি বল হাতে ১১ উইকেট নিয়ে সাকিব হয়েছিলেন সিরিজ সেরা।

সময় যত গড়িয়েছে সাকিব হয়েছেন তত পরিনত। দেশের হয়ে খেলার পাশাপাশি সুযোগ পান বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্ণামেন্ট গুলোতেও। কাউন্টি দিয়ে শুরু, ২০১১ তে প্রথম সুযোগ পান সবচেয়ে জনপ্রিয় টি-টোয়েন্টি টুর্ণামেন্ট ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগ (আইপিএলে) । একে একে সুযোগ পান সিপিএল,পিএসএল,বিগ-ব্যাশে। যেখানে সুযোগ পেয়েছেন সেখানেই নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ রাখেন সাকিব। সাথে প্রতিনিধিত্ব করেন দেশের হয়েও।

২০১২ সালের এশিয়া কাপ যে আসরে ২ রানের আক্ষেপে শিরোপা হাতছাড়া হয়েছিল টাইগারদের সেই আসরে তিন ফিফটি আর ৬ উইকেট নিয়ে ম্যাচ টুর্ণামেন্ট সেরা হয়েছিল সাকিব।

কাউন্টি খেলার সুবাদে শিশিরের সাথে পরিচয় সাকিবের সেখান থেকেই প্রেম তারপর বিয়ে বর্তমানে এক সন্তানের জনক সাকিব।

তবে মাঠ ও মাঠের বাইরে নানা কাজে অনেকবার সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়েছিল সাকিবকে।২০১৪ সালে ৬ মাসের জন্য নিষিদ্ধও হয়েছিলেন শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারনে।

তবে সাকিব থেমে যায়নি ফিরে এসেছে আপন ভঙ্গিমায়। দলের বিপর্যয়ে কি ব্যাট আর কি বল যখন যেখানে প্রয়োজন সেখানেই নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন মিস্টার অলরাউন্ডার।

বর্তমানে সাকিব বাংলাদেশ জাতীয় দলের টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক পাশাপাশি ওয়ানডে দলের সহ-অধিনায়ক। পাশাপাশি সারা বিশ্বে করে যাচ্ছেন লাল-সবুজের প্রতিনিধিত্ব।

আজ ২৪ মার্চ ৩২ -এ পা দিয়েছেন সাকিব আল হাসান। ৩২ এ পা দেয়া সাকিব আরো কয়েক বছর বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের নয়নমণি হয়ে থাকবে এটাই দেশের সকল ক্রিকেট সমর্থকের প্রত্যাশা। দেশের ক্রিকেটে সাকিবের হাত ধরেই আশে বিশ্বসেরা তকমাটা। জন্মদিনে সাকিবের প্রতি রইলো স্পোর্টস নিউজ বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here