নির্বাচকদের দল মানেই ‘প্রশ্নবিদ্ধ’!

0
333

আমাদের দেশের নির্বাচকদের দেওয়া দলের মতো সমালোচনা বোধহয় অন্য কোন দলে করা হয় না। বেশিরভাগ সিরিজে তাদের দেওয়া দলের উপর ‘প্রশ্নবিদ্ধ’ শক্তটা লেপটে থাকে! একে কেন নিলো,ওকে কেন নেওয়া হলো না এই প্রশ্ন থাকবেই তবে সেই একে ওকে নেওয়াটাও যদি ‘প্রশ্নবিদ্ধ’ হয় তাহলে সমস্যা!

টেস্ট দলে নতুন চার মুখ। ভালো কথা! সাকিব তামিম মোস্তাফিজদের ব্যাকআপ সহ তাদের উপর চাপ কমাতে এদের ডাকা হয়েছে। সোহানকে ডাকা হলো উইন্ডিজ সফরে,প্রথম টেস্টে চাপের মুখে মান বাঁচানো ইনিংস খেলেছেন। তবে পরের টেস্টের পারফমেন্স ছিলো খারাপই। সোহানকে নিয়ে প্রধান নির্বাচক বললেন মুশি কিপিংয়ে ব্যাক করবে তাই সোহানকে বাদ দেওয়া হয়েছে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট দল থেকে বাদ সোহান! তাহলে কি দাড়ালো? এক সিরিজের জন্য নেওয়া হয়েছিলো সোহানকে?

এবার আসা যাক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্টের দলে। এক তুষার ইমরান শুধু রান করেই যাচ্ছেন! নির্বাচকরা তুষার ইমরান নামটাতে যেন নাক শিটকানি দেন! এহ! ‘বুইড়া’ তো,ও আর কতোদিন খেলবে দু এক বছর? এতো কম সময়ের জন্য ওকে কেন নিবো দলে? আমরা তরুণ চাই তরুণ! যথারীতি এই টেস্ট স্কোয়াডে নেই তুষার ইমরান। খালেদ আহমেদকে ডাকা হয়েছে,সে উইকেটের মধ্যেই আছে। অপু ও মিঠুনের জায়গা পাওয়াটা ধারনা করা যাচ্ছিলো। বাকি থাকে আরিফুল হক! তিনি শুধু বিমানে চেপে সিরিজে খেলতে যাচ্ছেন ওয়ানডে দলে তার জায়গা নেই।

বিসিবি একজন পেস বোলিং অলরাউন্ডারের খোজে আছে অনেক দিন থেকেই। মাশরাফিও সেদিন (তৃতীয় ওয়ানডের আগে) বললেন বিসিবি একজন পেস বোলিং অলরাউন্ডার খুজছে যাকে হতে হবে সত্যিকারের একজন পেস বোলার যে দশ ওভার বল করতে পারবে এবং দলের জন্য ব্যাট হাতে ৩০-৩৫ রান যোগ করতে পারবেন। তিনি এটাও মনে করিয়ে দিলেন যে সাইফউদ্দিন এই জায়গায় উপযুক্ত। এতোগুলো ম্যাচে আরিফুলকে দলে দেখা যায় নি,তার জায়গায় এগিয়ে থেকে দলে খেলেছেন সাইফউদ্দিন। হঠাৎ করে আজকে (তৃতীয় ওয়ানডে) দলে আরিফুল হক! যখন মোস্তাফিজ মিরাজসহ সাকিব তামিম ফিরে আসবেন তখন আরিফুল কোথায় খেলবেন? যদি ধরা হয় যে সে সাইফউদ্দিনের জায়গায় খেলবেন তাহলে সে কিভাবে দলে জায়গা পাবে? সাইফউদ্দিন তো চাহিদা মোতাবেক পুষিয়ে দিচ্ছেন তাহলে আরিফুল এক ম্যাচ পরেই বাদ?

এবার আসা যাক দুই ‘অভাগা’র কাছে! নাজমুল হোসেন শান্ত এবং ফজলে রাব্বি। শান্তকে ডাকা হলে এশিয়া কাপের স্কোয়াডে। বড় মঞ্চ,প্রমানের বড় জায়গা সাথে চাপটাও বেশি থাকাটা স্বাভাবিক। ঐ চাপেই কীনা ব্যার্থ শান্ত। সুযোগ পেলেন তবে ফাইনালে দলের বাইরে। ঐযে ছিটকে গেলেন বোধয় কপালটাও পুড়লো! শান্তকে ধরা হচ্ছিলো বাংলাদেশের জন্য ভালো কিছু করতে পারবে তাদের ভেতর একজন। সেই শান্তর সক্ষমতাটাকে যাচাই করার বড় মঞ্চ হতে পারতো জিম্বাবুয়ে সিরিজ,তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষ তাই ভালো করার সম্ভবনা ছিলো অনেকটাই! তবে সেটা আর হয়ে ওঠেনি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে জায়গা হয়নি শান্তর। আরকে অভাগা ফজলে রাব্বি! দুটো ম্যাচে সুযোগ পেলেন তবে দুটোতেই ‘শুন্য’তে বিদায়। প্রথমটিতে বোলারের কৃত্বিত্ব থাকলেও পরেরটিতে নিজেকে দুষতেই পারেন রাব্বি। সাকিবের রিপ্লেসমেন্ট হিসাবে রাব্বিকে নেওয়া হয়েছিলো। গনমাধ্যমকে প্রধান নির্বাচক বললেন রাব্বি হচ্ছে ‘কমপ্লিট প্যাকেজ’,আমরা ওর বয়স নিয়ে ভাবছি না! তাহলে কেন এই কমপ্লিট প্যাকেজ মাত্র দুই ম্যাচ পরেই বাদ।

নুরুল হাসান সোহান,আরিফুল হক,নাজমুল হোসেন শান্ত আর হালের ফজলে রাব্বি সবাইকেই নির্বাচকেরা আপ এন্ড ডাউন খেলাচ্ছেন। নির্বাচকেরা ঠিক বুঝে উঠতে পারছেন না যে তারা আসলে কাকে চান,কিসের জন্য চান,কতো দিনের জন্য চান! পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে দু এক ম্যাচ দেখেই অভিষেকের খাতায় অভিষিক্তের সংখ্যা বাড়াচ্ছেন নির্বাচকেরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here