নিরবেই নিজের সেরাটা দিতে প্রস্তুত মাহমুদুল্লাহ

0
197

 

আছিফ উদ্দিন জয় : দরজায় কড়া নাড়ছে বিশ্বকাপ ক্রিকেট ২০১৯। বিগত যেকোনো আসরের থেকে এবারের আসরে টাইগারদের উপর প্রত্যাশাটা অনেক বেশি সমর্থকদের। সেই প্রত্যাশা পূরণ করার দায়িত্ব নিয়ে যে ১৫ জন ক্রিকেটার যাচ্ছে লাল-সবুজের প্রতিনিধি হয়ে বিশ্বমঞ্চ মাতাতে তাদের নিয়ে স্পোর্টস নিউজ বাংলাদেশের ধারাবাহিক পনেরো প্রতিবেদনের এগারো তম প্রতিবেদনে আজ থাকছে পঞ্চ পান্ডবের মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের কথা।

২০১৫ বিশ্বকাপ ও এর পরবর্তী সময় থেকে যে বদলে যাওয়া বাংলাদেশের কথা বলা হয় আর তার পিছনে যে সিনিয়র পাঁচ ক্রিকেটারের অবদান সবচেয়ে বেশি তাদের মধ্যে একজন হলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। মিডল অর্ডার সামলানোর দায়িত্ব, বা কখনো ফিনিশিংয়ের দায়িত্ব দুটোই সামাল দিচ্ছেন বেশ ভালোভাবে। পাশাপাশি দলের সংকটের সময়েও রয়েছে পারফর্ম করার দারুণ সামর্থ্য।

৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৬ সালে ময়মনসিংহে জন্ম নেয়া এই ক্রিকেটার ঢাকা বিভাগ ও বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে ভালো পারফরমেন্স করলে সুযোগ মিলে জাতীয় দলে। ২০০৭ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় মাহমুদউল্লাহর। তবে এর পর আবার দলের বাইরে চলে যান তিনি। তবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ভালো পারফর্ম করায় আবারো টাইগারদের হয়ে সুযোগ দেয়া হয় তাকে।

দলে ফিরে মূলত ৬ অথবা ৭ নাম্বারে ব্যাটিং করার সুযোগ পেতেন রিয়াদ। পাশাপাশি দলের প্রয়োজনে নিজের অফ স্পিন অপশনটাও ব্যাবহার করতে পারতেন তিনি। তবে জাতীয় দলে নিয়মিত থাকলেও নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ তখন সবটুকু দিতে পারেননি এই ক্রিকেটার। এরপর মাঝে ২০১৪ সালে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বাজে সময় কাটান রিয়াদ। ব্যাটে বলে পারফর্ম না করায় শুনতে হয় নানান সমালোচনা।

তবে রিয়াদের বদলে যাওয়ার শুরুটা ২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপের ঠিক আগে দিয়ে ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ থেকে। টিম ম্যানেজমেন্ট থেকে চার নাম্বার পজিশনে ব্যাটিং করার সুযোগ দেয়া হয় রিয়াদকে। সুযোগ পেয়ে নিজের সামর্থ্যর প্রমাণের ইঙ্গিত দেন রিয়াদ। ঐ সিরিজের পর ২০১৫ বিশ্বকাপেও চার নাম্বার পজিশনে ব্যাটিং করার সুযোগ পেয়ে নিজের ব্যাটিং দক্ষতার জানান দেন এই ক্রিকেটার। সেই বিশ্বকাপে দেশের হয়ে করেন পর পর দুটি সেঞ্চুরি। যার প্রথমটি এসেছিল ঐতিহাসিক ইংল্যান্ডকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার ম্যাচে আর পরের টি স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। সেই বিশ্বকাপ দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৭ ইনিংস থেকে ৩৬৫ রান করেন রিয়াদ। মূলত সেই থেকেই দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একজনে পরিনত হন রিয়াদ।

দলের সবচেয়ে সংকটের সময়ে পারফর্ম করার দক্ষতা আর কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নিয়ে ব্যাট করতে পারাটা রিয়াদের ব্যাটিংয়ের বিশেষত্ব। তবে রয়েছে চাপের সময় ভেঙ্গে পড়ার সমস্যাও। অনেক ম্যাচ জয়ে সময় তার ছোট ছোট অবদান গুলো আড়ালে থেকে যাওয়ার কারনে ডাকা হয় সাইলেন্ট কিলার।

ওয়ানডে ক্রিকেটে রিয়াদ এখন পর্যন্ত ম্যাচ খেলেছে ১৭৫ টি। ১৭৫ ওয়ানডে থেকে ৩৪.১৫ গড়ে রিয়াদের সংগ্রহ ৩৭৫৭ রান। যেখানে স্ট্রাইক রেট ৭৬.০৪। ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি রিয়াদের ডান হাতি অফ স্পিন বেশ কার্যকরী টাইগারদের জন্য। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ব্রেকথ্রু এনে দেয়ার বেশ ভালো অভিজ্ঞতা আছে এই ক্রিকেটারের। এখন পর্যন্ত ১৭৫ ওডিয়াই থেকে ৫.১৭ ইকোনমিতে ৭৬ উইকেট নিয়েছেন রিয়াদ।

ইংলিশ কন্ডিশনে রিয়াদের অতিত অভিজ্ঞতাও বেশ ভালো। ২০১৭ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দলের অতি সংকটের সময়ে নেমে সেঞ্চুরি করে ম্যাচ জিতানোর বেশ ভালো অভিজ্ঞতা রয়েছে মাহমুদউল্লাহর। এখন পর্যন্ত আইসিসির ৫০ ওভারের কোনো বড় টুর্ণামেন্টে ৩ টা সেঞ্চুরি রয়েছে রিয়াদের। যা টাইগারদের পক্ষে সর্বোচ্চ।

বিশ্বকাপে মুশফিক এবং মিথুনের সাথে মিডল অর্ডার সামলানোর দায়িত্ব থাকবে রিয়াদের কাঁধে। সেই দায়িত্ব পরিনত হতে পারে ফিনিশিংয়েও। অভিজ্ঞতা আর দক্ষতা দুই কাজে লাগিয়ে অধিনায়ক মাশরাফির অন্যতম আস্থার প্রতিক হয়ে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ রাখবেন রিয়াদ এমনটাই চাওয়া দল ও সমর্থকদের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here