দেশকে আরেকটি ‘টাইগার শরীফ’ উপহার দিতে চাই – শরীফ

0
56

সোহেব ইবনে সামস: ঢাকা ডার্বি দিয়ে ফুটবলকে বিদায় জানাতে যাচ্ছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক মিডফিল্ডার এনামুল শরীফ। তিনি মূলত ‘টাইগার শরীফ’ নামেই সমর্থকদের কাছে বেশি পরিচিত। ইঞ্জুরির কারনে ৩৭ বছর বয়সেই ফুুটবলকে বিদায়  জানাতে যাচ্ছে মোহামেডানের ঘরের ছেলে শরীফ। বিদায় বেলায় স্পোর্টস নিউজ বাংলাদেশের সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে দীর্ঘ ক্যারিয়ার নিয়ে কথা বলেন তিনি। সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশ SNBtalk এ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-

প্রশ্ন : ইঞ্জুরির কারনে ফুটবলকে বিদায় জানাতে হচ্ছে এখনই। এর চেয়ে বেশি বয়সের খেলোয়াড়রা এখন খেলে যাচ্ছেন। এই নিয়ে কি কোন আক্ষেপ আছে আপনার?

শরীফ : অবশ্যই কিছুটা আক্ষেপ আছে, তবে আমি ওদের পথে হাটতে চাই না। আমি ফুটবলে এসিছলাম টাইগারের মতো,বিদায়ও নিবো টাইগারের মতো। হয়তো ২০২০ সাল পর্যন্ত খেলতে পারতাম। কিন্তু কয়জনের জীবনে মোহামেডান-আবাহনী ম্যাচ দিয়ে বিদায় নেয়ার সৌভাগ্য জুটে? আমাদের দেশের অনেক বড় খেলোয়াড়ই মাঠ থেকে বিদায় নিতে পারেননি। সেক্ষেত্রে আমি অনেকটা সৌভাগ্যবান।

প্রশ্ন : সমর্থকদের কাছ থেকে ‘টাইগার’ উপাধি পেয়েছিলেন। এটি নিয়ে কি আলাদা কোন আবেগ কাজ করে?

শরীফ : সময়টা ২০০৬। মোহামেডানের হয়ে খেলতে নামার পর সমর্থকরা আমাকে টাইগার বলে সম্বোধন করেন, কারন ঐ সময়টা আমি অনেক এগ্রেসিভ ফুটবল খেলতাম। এরপর মোহামেডানের সতীর্থরা একই নামে ডাকা শুরু করেন। ‘টাইগার শরীফ’ নামটা আমার কাছে একটি আলাদা আবেগের জায়গা। কেউ এই নামে ডাকলে আমার স্পিড ১০০ থেকে ১২০ এ চলে যায়।এই নামটি আমাকে অনুপ্রানিত করে।

প্রশ্ন : মাঝে বড় একটা সময় ইঞ্জুরির কারনে খেলতে পারেন নি। অনেক খেলোয়াড়ই আছে বাংলাদেশে যাদের ক্যারিয়ার একই কারনে শুরুর আগেই শেষ হয়ে যায়। আপনার মতে তাদের জন্য বাফুফে বা ক্লাবের করনীয় কি?

শরীফ : ২০১২-১৪ ইঞ্জুরির কারনে ফুটবলকে প্রায় বিদায় বলে দিয়েছিলাম। তবে শেখ জামাল ক্লাব আমাকে ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে। এভাবে করে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের মাঠে ফিরিয়ে আনতে ফেডারেশন ও ক্লাব গুলোতে উদ্দ্যোগী হতে হবে। তাহলে ভালো খেলোয়াড় ইঞ্জুরির ভয় জয় করে ভালো ফুটবল খেলা উপহার দিতে পারবে।

প্রশ্ন : অবসরের পর কি পরিকল্পনা রয়েছে আপনার?

শরীফ : আপাতত পারিবারিক ব্যবসা আছে যা দেখাশুন করবো। সাথে খেলার কারনে পরিবারকে তেমন সময় দিতে পারি নি কখনই, এখন তাদের কিছুটা সময় দিতে চাই। এছাড়া আমার ফুটবল একাডেমি রয়েছে। খেলোয়াড়দের জন্য নিঃস্বার্থভাবে কাজ করবো। আমি আরেকটি ‘টাইগার শরীফ’ দেশকে তৈরি করে দিতে চাই।

প্রশ্ন : আমাদের দেশের ফুটবল অনেক পিছিয়ে পড়েছে। আপনার এই ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতার পর আমাদের দেশের ফুটবল পিছিয়ে পড়ার কারন কি বলে মনে করেন?

শরীফ : আমাদের ফুটবলে কখনই তেমন ইভেস্টমেন্ট হয়নি। এখন বসুন্ধরা গ্রুপ, সাইফ পাওয়ারটেক যেমনি ভাবে এগিয়ে আসছে তেমনি আরো কিছু শিল্প প্রতিষ্ঠান ফুটবলের স্বার্থে এগিয়ে আসলেই আমাদের উন্নতি সম্ভব।শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো ভালে মানে একাডেমি তৈরি করে খেলোয়াড়দের ভাতা দিয়ে বয়সভিত্তিক দল গঠন করলে আমাদের ফুটবল আবারও এগিয়ে যাবে ইনসাল্লাহ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here