দুই তারকার অনুপস্থিতিতেও ডার্বি ঘিরে আগুনে মেজাজ

0
330

কলকাতা প্রতিনিধি : সমর্থকদের হৃদয়ভঙ্গ হয়েছিল সপ্তাহখানেক আগেই | বাগান সমর্থকদের হল ডার্বির চব্বিশ ঘন্টা আগে | লাল হলুদের তুরুপের তাস এনরিকের মতো ডার্বি থেকে ছিটকে গেলেন সবুজ-মেরুনের প্রাণ ভোমরা সনি নর্ডিও | এনরিকে চোট পেয়েছিলেন সপ্তাহ খানেক আগে , তখনই নিশ্চিত হয়ে যায় ডার্বিতে নেই তিনি | বাগান সমর্থকরা ঘুনাক্ষরেও আন্দাজ করতে পারেননি ‘পোয়েটিক জাস্টিস’ এর মত ফুটবল বিধাতা তাঁদের কাছ থেকেও সেরা অস্ত্রটিকে ছিনিয়ে নিয়ে দুই প্রধানকেই এরকম এক কাতারে দাঁড় করিয়ে দেবে | পয়েন্ট টেবিলের নিরিখেও এই মুহুর্তে এক কাতারে দুই দল ; ৬ ম্যাচে ৯ পয়েন্ট | দুই শিবিরের এই ‘নেই’ রাজ্যেও ডার্বি নিয়ে আগুনে মেজাজ অবশ্য কিছুতেই দমানো যাচ্ছে না | ডার্বি ঘিরে টিকিটের হাহাকার তো ছিলই , সকাল সন্ধ্যে যখনই হোক যুবভারতীর আশ পাশ দিয়ে গেলেই শুধু কালো মাথার সর্পিল লাইন |

শনিবাসরীয় শীত সন্ধ্যায় রীতিমতো কার্নিভালের মেজাজ | দৃশ্যটি দেখে ভারতীয় ফুটবল সমন্ধে একেবারেই অজ্ঞ পাড়ার পাঁচুও বলে দেবে কাল ডার্বি | এক এক সময় এসব দেখে মনে হচ্ছে এতো সব জাঁকজমক কার জন্য? দুই শিবিরের সেরা দুই অস্ত্রই তো কাল যুবভারতীতে থাকছেন না | কিন্তু নিবিড় পর্যবেক্ষনে ধরা পড়বে দুই কোচই তাঁদের দুই ব্রম্ভাস্ত্রকে না পেলেও হারার আগে হারতে রাজি নন | ইস্টবেঙ্গল কোচ আলেজান্দ্রো তো সাংবাদিক সম্মেলনে কোনোরকম রাখঢাক না রেখে বলেই গেলেন কে আছে কে নেই এসব নিয়ে কান্নাকাটি না করে যারা আছে তাঁদের নিয়েই সমস্যার সমাধান বের করতে হবে , ম্যাচের পর দেখা যাবে কে এগিয়ে কে পিছিয়ে | বাগান কোচ শঙ্করলাল চক্রবর্তী অবশ্য মুখে কিছু না বলতে চাইলেও হাবেভাবে স্পষ্ট তিনিও ডার্বি নিয়ে সমান উত্তেজিত |

সনি না থাকলেও যারা আছেন তাঁদের নিয়ে এদিন ঘন্টার পর ঘন্টা পড়ে থাকলেন প্র্যাকটিসে | সনি নিজে অবশ্য ডার্বি না খেলতে পেরে প্রবল হতাশ | ইস্টবেঙ্গল যেমন প্রথম ১৫ মিনিট মিডিয়ার জন্য খুলে রেখে বাকিটা সময় ক্লোজ ডোর অনুশীলন করল মোহনবাগান অবশ্য তেমন নয় , এখানে সবসময়ই খোলামেলা | লাল হলুদ শিবিরে এনরিকে না থেকেও অবশ্য প্রবলভাবে আছেন | এদিন টিমের প্র্যাকটিস দেখতে যুবভারতীতে এসেছিলেন সবুজ জ্যাকেট গায়ে চাপিয়ে | প্র্যাকটিস শেষে ড্রেসিংরুমে গিয়ে সতীর্থের তাতিয়ে দিয়ে এসেছেন , বলেছেন এই ডার্বি জিতে আমাকে উপহার দাও | ড্রেসিংরুমের দেওয়ালে লিখে দিয়ে এসেছেন “জীবনের যুদ্ধ সবসময় শক্তিশালীরা জেতে না , বরং সেই লোকটা জেতে যে কখনও হারতে শেখেনি”—এসব পড়েটড়ে লাল হলুদ যোদ্ধাদের যে বাড়তি অ্যাড্রিনালিন ক্ষরন হবে তা বলাই বাহুল্য | ডার্বি মানেই মর্যাদার লড়াই , আবেগের যুদ্ধ এসব কিছুকে মাথায় রেখেও দু’দলই আজ ঘরে তুলতে চায় ৩ পয়েন্ট | মোহনবাগানের শক্তিশালী ফরোয়ার্ড লাইন ডিকা-হেনরি জুটি ইস্টবেঙ্গলের বোরহা-অ্যাকোস্টার ডিফেন্স ভাঙবে নাকি লাল-হলুদের অচেনা বিদেশি কোলাডো তাঁর অভিষেকেই চমকে দেবেন গঙ্গাপারের ক্লাবকে ; উত্তর দেবে রবিবাসরীয় যুবভারতী |

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here