তুমি কোটি প্রানের আশা, তুমি লাল সবুজের ভালোবাসা

0
102
Bangladesh's Mashrafe Mortaza appeals unsuccessfully during the Pool A 2015 Cricket World Cup match between Sri Lanka and Bangladesh at the Melbourne Cricket Ground (MCG) on February 26, 2015. AFP PHOTO / MAL FAIRCLOUGH --IMAGE RESTRICTED TO EDITORIAL USE - STRICTLY NO COMMERCIAL USE (Photo credit should read MAL FAIRCLOUGH/AFP/Getty Images)

‘তুমি কোটি প্রানের আশা, তুমি লাল সবুজের ভালোবাসা’ গানের এই কথাগুলো আসলেই ব্যাখা করে একজন কিংবদন্তিকে। তিনি আমাদের মাশরাফি বিন মুর্তাজা। ১৯৮৩ সালের ৫ অক্টোবর নড়াইলে জন্ম, বেড়ে ওঠা চিত্রা নদীর পাড়ে। আজ পেরিয়ে গেছে ৩৬টি বছর। টাইগারদের সফল এই অধিনায়ক ৩৭ বছরে পা দিয়েছেন। বাবার নাম গোলাম মুর্ত্তজা স্বপন। মায়ের নাম হামিদা বেগম বলাকা। দুই ভাইয়ের মধ্যে মাশরাফি বড়। ছোট ভাই সিজার মাহমুদও ক্রিকেট নিয়েই সময় কাটান।

ধানমন্ডি স্টেডিয়ামে খুলনা বনাম ঢাকা মেট্রোপলিটন এর ম্যাচ চলছে, বয়স বেশী বলে খেলতে পারলেন না নড়াইলের এক তরুণ। কিন্তু জাহিদ রেজা বাবু ঠিকই হিরকখন্ড চিনেছিলেন। মেডিকেল পরীক্ষায় করিয়ে বয়সের বাধা উতরে দিলেন, পরদিন সেই তরুণেরই আগুনঝড়া গতিতে জয় পেলো খুলনা। ২০০১ সালে ডাক পেলেন জিম্বাবুয়ে সিরিজে, অভিষেকেই গ্রান্ট ফ্লাওয়ারের স্ট্যাম্প শূন্যে উড়ালেন, প্রথম ইনিংসেই চারখানা উইকেট।

মাশরাফি বাংলাদেশের প্রথম স্পিড স্টার, হয়তো তিনিই প্রথম কোনো পেসার যিনি পেস বোলিংয়ে স্ট্যান্ডার্ড বা ক্রেজ তৈরি করেছিলেন।মাশরাফি নামটাই যেন একটা আলাদা অনুভূতি, আবেগের জায়গা। তার খুব কাছের মানুষও বোধহয় আশা করেন না প্রতি ম্যাচেই তিনি ৫ উইকেট নেবেন, প্রতি ম্যাচেই ব্যাট হাতে সেঞ্চুরি করবেন। তারপরও কিন্তু মাশরাফিকে মাঠে নামতে দেখে গ্যালারির দর্শক আলাদা কোনো উত্তেজনায় কাঁপতে থাকেন, দাঁড়িয়ে পড়েন, হাততালি দেন। এটা প্রমাণ করে ম্যাশের প্রতি দেশের মানুষের ভালোবাসা, শ্রদ্ধা। বাংলাদেশের আর কোনো ক্রিকেটার এমন ভালোবাসা, শ্রদ্ধা কখনো পেয়েছেন কিনা জানা নেই। প্রায় ২০ বছরের খেলোয়াড়ি জীবনে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে যা দিয়েছেন, তা তাকে পরিণত করেছে কোটি হৃদয়ের ভালোবাসায়।

তার অধীনে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে টাইগাররা, ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে পৌঁছেছে সেমিফাইনালে আর ২০১৬ সালের এশিয়া কাপে হয়েছিল রানার্সআপ। এছাড়া চলতি বছরের শুরুতে প্রথমবারের মতো কোনো বহুজাতিক টুর্নামেন্টের শিরোপাও জিতেছেন তিনি। দ্বিপাক্ষিক সিরিজে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো দলগুলোকে হারানো। শ্রীলঙ্কার মাটি থেকে কোনো সিরিজ না হেরে দেশে ফেরার সাফল্যের দেখাও মিলেছে মাশরাফির অধিনায়কত্বে। তার অধীনে বাংলাদেশ দল ৮৫টি ওয়ানডে খেলে জিতেছে ৪৭টিতে, যা কি না দেশের ইতিহাসে যেকোনো অধিনায়কদের মধ্যে সর্বোচ্চ। টি-টোয়েন্টিতে ২৮ ম্যাচে ১০ জয় নিয়েও বাংলাদেশের অন্যান্য অধিনায়কদের চেয়ে ওপরেই অবস্থান করছেন তিনি।

অধিনায়কত্বের বাইরে খেলোয়াড়ি ক্যারিয়ারও বেশ সমৃদ্ধ মাশরাফির। এখনও পর্যন্ত ওয়ানডে ক্রিকেটে তিনিই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী। ২০০১ সালের ২৩ নভেম্বর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে ক্রিকেটে অভিষেক হয় মাশরাফির। ২১৭ ম্যাচে তার শিকার ২৬৬ উইকেট, ৫ উইকেট নিয়েছেন একবার, ৪ উইকেট সাতবার। এছাড়া ব্যাট হাতেও ওয়ানডে ক্রিকেটে রয়েছে ১৭৮৬ রান।  টেস্টে ৩৬ ম্যাচে তার ঝুলিতে রয়েছে ৭৮টি উইকেট। এ ফরম্যাটে তার রান সংখ্যা ৭৯৭। এছাড়া কুড়ি ওভারের ক্রিকেটে ৫৪ ম্যাচে ৪২ উইকেটের সঙ্গে ৩৭৭ রান করেছেন মাশরাফি।

মাশরাফি বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলোয়াড়ই শুধু নয়, মানুষও। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ মাশরাফি। তার উপর আস্থা রেখেই জন্মস্থান নড়াইল থেকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লড়াইয়ের সুযোগ করে দেন। একাদশ সংসদ নির্বাচনে নড়াইল-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মাশরাফি।

চলে এসেছেন ক্যারিয়ারের শেষপ্রান্তে, হয়তো খেলবেন আর গুটিকতক ম্যাচ। কিন্তু ক্রিকেটের বাইরেও যে তিনি বাংলাদেশের মানুষের অনুপ্রেরণার নাম। তাই তো সকলের কামনা হাজারো ক্রিকেট ভক্তের ভালোবাসা নিয়ে, হাজারো তরুণ ক্রিকেটারের অনুপ্রেরণা হয়ে শত বছর বেঁচে থাকুক আমাদের মাশরাফি।

শুভ জন্মদিন মাশরাফি

শুভ জন্মদিন কিংবদন্তি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here