তামিমের সূচনায় নির্ভর বাংলাদেশের সুন্দর পরিসমাপ্তি

0
85

 

আছিফ উদ্দিন জয় : দরজায় কড়া নাড়ছে বিশ্বকাপ ক্রিকেট ২০১৯। বিগত যেকোনো আসরের থেকে এবারের আসরে টাইগারদের উপর প্রত্যাশাটা অনেক বেশি সমর্থকদের। সেই প্রত্যাশা পূরণ করার দায়িত্ব নিয়ে যে ১৫ জন ক্রিকেটার যাচ্ছে লাল-সবুজের প্রতিনিধি হয়ে বিশ্বমঞ্চ মাতাতে তাদের নিয়ে স্পোর্টস নিউজ বাংলাদেশের ধারাবাহিক পনেরো প্রতিবেদনের তেরো তম প্রতিবেদনে আজ থাকছে দেশ সেরা ওপেনার তামিম ইকবাল খানের কথা।

ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের ভালো শুরুটা হোক সেটা রান সংগ্রহ করা কিংবা রান তাড়া করায় যার উপর সবচেয়ে বেশি নির্ভর করেন তিনি হলেন তামিম ইকবাল। গেলো এক যুগ ধরে সামলাচ্ছেন টাইগারদের ওপেনিংয়ের এক প্রান্ত। ওপেনার থেকে হয়েছেন দেশ সেরা ওপেনার। গেলো এক যুগে তার সাথে ওপেনিংয়ে বহু প্লেয়ার আসা যাওয়া করলেও তামিম বরাবরই ছিলেন নিজের জায়গায় ধারাবাহিক।

২০ মার্চ ১৯৮৯ সালে চট্টগ্রামে জন্ম নেয়া এই ক্রিকেটার ২০০৭ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পথচলা শুরু করেন। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই আগ্রাসী ভঙ্গিতে ব্যাটিং করতে খুব পছন্দ করতেন তামিম। ২০০৭ বিশ্বকাপে ঐতিহাসিক ভারতকে হারানোর ম্যাচে শুরুতে তার অর্ধশতকই জয়ের পথ করে দেয় টাইগারদের। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই ওপেনিংয়ে তামিমের পারফরম্যান্স ছিলো দেখার মতো। যত সময় গড়িয়েছে তামিম তত পরিনত হয়েছেন দলের ভরসায়। তবে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে যেভাবে পারফর্ম করতেন তামিম ঠিক সেভাবেই দ্রুত আউট হওয়ার প্রবণতা ভালো শুরু করে ধরে রাখতে না পারা এবং ইনিংস বঠ করতে না পারার প্রবনতাও ছিলো অনেক। যার কারনে শুনতে হয় নানান সমালোচনা। মাঝে ছিলো কিছু ইনজুরি সমস্যাও। তবে বদলে যাওয়া তামিমের শুরুটা হয় ২০১৫ বিশ্বকাপের পর থেকে। ব্যাটিংয়ের ধরন পাল্টে তামিম নিজের ব্যাটিং ধরন আবিষ্কার করেছেন নতুনভাবে। তামিমের পরিবর্তনে একদিকে যেমন তামিমের ইনিংস বড় হয় অন্যদিকে দলীয় রানও বড় হয়।

 

ওয়ানডেতে তামিম এখন পর্যন্ত ম্যাচ খেলেছেন ১৯৩ টি। যেখানে ৩৬.৩ গড় এবং ৭৮.১ স্ট্রাইকরেটে তামিমের রান দেশের হয়ে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৬৬৩৬। যেখানে রয়েছে ৪৬ টি অর্ধশতক এবং ১১ টি শতক। ২০১৫ বিশ্বকাপের আগে তামিম ওয়ানডে খেলেছিলেন ১৪১ টি যেখানে তার রান ছিলো ২৯.২৭ গড়ে ৪১২৫ পাশাপাশি সেঞ্চুরি ছিলো ৪টি। আর ২০১৫ বিশ্বকাপের পর থেকে তামিম ৫২ ম্যাচ খেলে করেছেন ২৫১১ রান যেখানে গড় ৫০ এর উপর আর সেঞ্চুরি ৭ টি।

পরিসংখ্যান দেখেই বুঝা তামিম কতটা পাল্টেছেন নিজেকে আর তার ব্যাটিংকে। ইংলিশ কন্ডিশনে বরাবরই উজ্জ্বল খান সাহেবের ব্যাট। গেলো ২০১৭ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতেও দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন তামিম।ছিলো দুটি শতক ও একটি অর্ধশতক। তামিম এখন পর্যন্ত ইংল্যান্ডে ওয়ানডে খেলেছেন ৭ টি। ৭ ওয়ানডে থেকে তামিমের সংগ্রহ ৫০.৭১ গড়ে ৩৫৫ রান। বিশ্বকাপে বাংলাদেশ যে লক্ষ্য নিয়ে গিয়েছে সেটি পূরণের জন্য ব্যাটিংয়ে তামিমের ব্যাটের দিকেই সবচেয়ে বেশি তাকিয়ে থাকবে দল। ওপেনিংয়ে তার বড় সংগ্রহই পারে টাইগারদের জয়ের পথ করে দিতে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here