চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ

0
53

সেই ২০০৯ সাল থেকে শুরু। ২০১৮ সাল পর্যন্ত একে একে ছয়টি ফাইনাল খেলা বাংলাদেশের শিরোপা ছোঁয়া হয়নি। এবার সেই আক্ষেপ ঘুঁচলো। উইন্ডিজকে ৫ উইকেটে হারিয়ে শিরোপার স্বাদ পেয়েছে টিম বাংলাদেশ। পঞ্চ পাণ্ডবের হাতেই লাকি ‘সেভেন’এ শিরোপা উৎসবে মাতলো বাংলাদেশ।

২০০৯ সালে ত্রিদেশীয় সিরিজের হারেরপর ২০১২ সালেও একই পরিণতি। এশিয়া কাপের ফাইনালে যাওয়া বাংলাদেশ অল্পের জন্য শিরোপা হাতছাড়া করে। ২০১৬ সালে আবারো এশিয়া কাপে রানার্সআপ বাংলাদেশ। ২০১৮ সালে দু’টি টুর্ণামেন্টের ফাইনাল খেলা বাংলাদেশের কাছে অধরাই থেকে যায় স্বপ্নের শিরোপা। নিদাহাস ট্রফির ফাইনালে গিয়ে যাওয়া বাংলাদেশ এশিয়া কাপের ফাইনালেও হার নিয়ে মাঠ ছাড়ে। তবে এবার আর খালি হাতে ফিরতে হলো না। ডাবলিনে স্বপ্নের শিরোপা জিতলো বাংলাদেশ। স্বাগতিক আয়ারল্যান্ড ও উইন্ডিজকে হটিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা উঠেছে মাশরাফীর হাতে।

টিম বাংলাদেশের পঞ্চপাণ্ডব মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ও তামিম ইকবালরা ঘুঁচালেন শিরোপার অপেক্ষা। সামনের বিশ্বকাপ পরেই অবসরে যাবেন বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে সফল অধিনায়ক মাশরাফী। তার আগেই তিনি শিরোপার স্বাদ এনে দিলেন বাংলাদেশকে। সাকিব, তামিমরা আয়ারল্যান্ডের এই ত্রিদেশীয় সিরিজে ছিলেন দুর্দান্ত। উইন্ডিজকে পরপর তিন ম্যাচে ও আইরিশদের এক ম্যাচে হারানো বাংলাদেশ ফাইনালে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বেশ লড়াই করে।

আগে ব্যাট করা উইন্ডিজরা বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচে নির্ধারিত ২৪ ওভারে এক উইকেটে ১৫২ রান তুলে। বৃষ্টি আইনে বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ২১০ রান। সৌম্যের খুনে মেজাজি শুরুর পর মোসাদ্দেকের শেষ দিকের ঝড়ো হাফ সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশ ৫ উইকেট হাতে রেখেই টপকে যায় কঠিন লক্ষ্য।

বড় লক্ষ্যে ব্যাট করতে নামা তামিম-সৌম্য ছিলেন বিধ্বংসী। একের পর এক বাউন্ডারিতে দু’জনেই উদ্বোধনী জুটিতে তুলে নেন ৫৯ রান। এরপর ব্যক্তিগত ১৮ রানে তামিম ফিরে গেলেও অবিচল থাকেন সৌম্য সরকার। ক্যারিবিয়ান বোলারদের পিটিয়ে বাংলাদেশকে নিয়ে শিরোপার পথে এগুতে থাকেন এই বিংধ্বসী ওপেনার। নয়টি চার ও তিনটি বিশাল ছক্কায় ৬৬ রানের ঝলমলে এক ইনিংস খেলেন তিনি। ৪১ বলের ঝড়ো ইনিংসে তিনি গড়ে দেন জয়ের ভিত্তি। বাকী কাজটা সেরে নেন মোসাদ্দেক হোসেন সৌকত। সাত নম্বরে ব্যাট করতে নামা এই তরুণ ব্যাটসম্যান উন্ডিজ বোলারদের তুলোধুনো করে ছাড়েন। মাত্র ২৪ বলে ৫২ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে দ্রুততম হাফ সেঞ্চুরির ‘রেকর্ড’ গড়েন তিনি। ২টি চার ও ৫টি ছক্কার জয় সূচক ইনিংস খেলেন অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন তিনি। ১৯ রানে অপরাজিত থাকেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। ২২ বলে দুই চার ও দুই ছয়ে ৩৬ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলে আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্তে সাজঘরে যান মুশফিকুর রহিম। মোসাদ্দেকের ঝড়ে ৭ বল ও ৫ উইকেট হাতে রেখেই প্রথমবার বৈশ্বিক কোনো শিরোপা ছোঁয়া পেলো বাংলাদেশ দল।

উইন্ডিজের হয়ে রায়মন ও গ্র্যাব্রিয়েল ২টি করে উইকেট লাভ করেন।

টস হেরে ফিল্ডিং করতে নামা উন্ডিজরা বাংলাদেশের বোলারদের সাবলীল ভাবেই খেলতে থাকে। দুই ওপেনার শাই হোপ ও সুনিল এমব্রিস উদ্বোধনী জুটিতেই গড়েন ১৪৪ রানের জুটি। ইনিংসের শেষ দিকে মেদেহী হাসান মিরাজের শাই হোপ ফিরে যান ৭৪ রানে। ৬৪ বলের ইনিংসে চারটি ছয় ও তিনটি ছক্কা হাঁকান এই ওপেনার। আরেক ওপেনার সুনিল এমব্রিস ৬৯ রানে অপরাজিত থাকেন। ৭৮ বলের ইনিংসে সাতটি বাউন্ডারি হাঁকান তিনি। ৩ রানে অপরাজিত থাকেন ব্র্রাভো।

বাংলাদেশের বোলাররা এদিন তেমন সফল হতে পারেননি। একমাত্র মিরাজ শিকার করতে পেরেছেন এক উইকেট।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here