খেলবে টাইগার, জিতবে টাইগার

0
88
২০১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ভালো করার সম্ভাবনা? লাইনটা দেখে হয়তো অনেকে যিনি লিখেছেন লিখাটা তার পিন্ডি চটকাতেও বাকি রাখবেনা। ইংলিশ কন্ডিশন তারপর গ্রুপ পর্ব থেকে নকআউট পর্বে যাবে মাত্র চারটি দল এতোকিছুর মাঝেও কিভাবে মাশরাফি বাহিনীকে নিয়ে সম্ভাবনার কথা লিখা যায়! এসবও বলার সুযোগ থাকছেই তবে বিষয়টা ২০১৫ বিশ্বকাপের আগের বাংলাদেশ দলের ক্রিকেট আর ২০১৫ বিশ্বকাপ সময় ও এর পরবর্তী সময়ের বাংলাদেশে দলের ক্রিকেটের অবস্থার আমূল পরিবর্তনের জন্যই উঠছে সম্ভাবনার কথা।
বাংলাদেশের ক্রিকেটকে দুটো ভাগে ভাগ করা যায়। একটা ১৯৯৭ চ্যাম্পিয়নস ট্রফি থেকে ২০১৫ বিশ্বকাপের আগ পর্যন্ত। আরেকটা অংশ ২০১৫ বিশ্বকাপ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত। প্রথম অংশে উত্থানের আশায় যেখানে অধিকাংশটাই হতাশা ছিলো সেখানে পরের অংশটায় প্রথমভাগ থেকে প্রাপ্ত সম্পদগুলো নিয়ে উত্থানের দারুণ কিছু গল্প। টাইগারদের ক্রিকেট ইতিহাসে ট্রফির দিক দিয় নেই কোনো বড় সাফল্য এখন পর্যন্ত সাফল্য সদ্য শেষ হওয়া ত্রিদেশীয় সিরিজে চ্যাম্পিয়ন হওয়া। তারপরেও এমন একটা দলকে নিয়ে সম্ভবনা  খুঁজাটা অনেকের কাছে বোকামি মনে হলেও অভিজ্ঞ পঞ্চপাণ্ডব আর তরুন তুর্কীগুলো কে নিয়েও ভালো করার প্রত্যাশা দেখাই যায়। সাথে ২০১৭ ইংলিশ কন্ডিশনে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনাল খেলার দারুণ স্মৃতিতো থাকছেই সাথে।
কন্ডিশন বিবেচনায় সাফল্য পাওয়ার দৌড়ে অনেকে টাইগারদের না রাখার পক্ষে বাজি ধরলেও স্কোয়াডে অভিজ্ঞতা আর তারুণ্য এই দুই ছন্দ মিলে গেলে সম্ভবনার আশা দেখাও খুব অন্যায় হয়ে যায়না।  যেখানে মাঠের লড়াইয়ে যে চাপ সামলে পারফর্ম করতে পারবে জয় তার পক্ষেই যাবে।
টাইগারদের বিশ্বকাপ পারফরম্যান্স
১৯৯৯( গ্রুপপর্ব), ২০০৩ ( গ্রুপপর্ব), ২০০৭( সুপার এইট), ২০১১(গ্রুপপর্ব), ২০১৫( কোয়ার্টার ফাইনাল)।
বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের স্কোয়াড
মাশরাফি বিন মুর্তজা (অধিনায়ক), সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল খান, লিটন কুমার দাস, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মেহেদী হাসান মিরাজ, মোহাম্মদ মিঠুন, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, মুশফিকুর রহিম, মোস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন, সাব্বির রহমান, আবু জায়েদ চৌধুরী রাহী, সৌম্য সরকার ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।
বাংলাদেশ দলের এক্স ফ্যাক্টর
সাকিব আল হাসান
বাংলাদেশ ক্রিকেট যে জিনিস গুলো নিয়ে গর্ব করতে পারে বা গর্ব করার জায়গা রয়েছে সেগুলোর একটি হলো এদেশের একজন সাকিব আল হাসান রয়েছেন। কথায় বলে বাংলার জান বাংলার প্রাণ সাকিব আল হাসান।  বাংলাদেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় পারফর্মার সাকিব আল হাসান।  ব্যাটিং – বোলিং দুই বিভাগেই সমান অবদান সাকিবের। বিশ্ব ক্রিকেটে বর্তমান বাংলাদেশের যে অবস্থান সেটার পেছনে অন্য সবার চেয়ে সাকিবের অবদানই মুখ্য। বিশ্বকাপেও বাংলাদেশের সাফল্যের জন্য সাকিবের ব্যাটিং – বোলিং দুইটার দিকেই তাকিয়ে থাকবে বাংলাদেশ। পরিসংখ্যানই বলে দেয় টাইগারদের জন্য  সাকিবের অপরিহার্যতা।  ওয়ানডেতে সাকিব এখন পর্যন্ত ম্যাচ খেলেছেন ১৯৮ টি। ১৯৮ ওয়ানডে থেকে ৩৫.৫১ গড় এবং ৮১.৫৫ স্ট্রাইক রেটে সাকিবের রান সংখ্যা ৫৭১৭।  বল হাতেও বরাবরই উজ্জ্বল সাকিব। ওয়ানডেতে উইকেট সংখ্যা ২৪৯।
ইকোনমিটাও ৪.৪৪ যা বর্তমান ক্রিকেটের জন্য বেশ ভালো। সংখ্যা গুলোই বলে দেয় সাকিবের গুরুত্ব কতটা।  বিশ্বকাপে দলের ব্যাটিং লাইনআপে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা তিন নাম্বার পজিশন সামলানোর গুরুদায়িত্ব থাকবে মিস্টার অলরাউন্ডারের উপর। সাথে বোলিংয়ে তার স্পিন ঘূর্ণি তো থাকছেই। পাশাপাশি রয়েছে কাউন্টি খেলার যথেষ্ট অভিজ্ঞতা।
তামিম ইকবাল
ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের ভালো শুরুটা হোক সেটা রান সংগ্রহ করা কিংবা রান তাড়া করায় যার উপর সবচেয়ে বেশি নির্ভর করেন তিনি হলেন তামিম ইকবাল। গেলো এক যুগ ধরে সামলাচ্ছেন টাইগারদের ওপেনিংয়ের এক প্রান্ত। ওপেনার থেকে হয়েছেন দেশ সেরা ওপেনার। গেলো এক যুগে তার সাথে ওপেনিংয়ে বহু প্লেয়ার আসা যাওয়া করলেও তামিম বরাবরই ছিলেন নিজের জায়গায় ধারাবাহিক। বাংলাদেশ ক্রিকেটের মতো  তামিমের ক্যারিয়ারকেও দুটো ভাগে ভাগ করা যায়। একটা অংশ ২০০৭ থেকে ২০১৫ বিশ্বকাপ পর্যন্ত আরেকটা ২০১৫ বিশ্বকাপ পরবর্তী বদলে যাওয়া তামিমের গল্প।যেখানে তামিম আরো দায়িত্ববান এবং উজ্জ্বল।
ওয়ানডেতে ৬৬৩৬ রান তার থেকেও বড় কথা ইংলিশ কন্ডিশনে তামিমের গড় ৫০ এর উপর যেটা বাড়তি অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে তামিমের জন্যই। ওপেনিং থেকে তার বড় ইনিংসই বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ভালো করার হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে।
মোস্তাফিজুর রহমান
ক্যারিয়ারের শুরুর মোস্তাফিজ আর ইনজুরি পরবর্তী মোস্তাফিজ দুইটা জায়গায় যুক্তি দেখানোর অনেক কারণ থাকলেও বিশ্বমঞ্চে টাইগারদের বোলিংয়ের গুরুদায়িত্বটা থাকবে ফিজর উপরই।  আধুনিক ক্রিকেট, ইংলিশ কন্ডিশন, ব্যাটিং সহায়ক পিচ এসব কিছু যেমন উল্টাে পিঠে দাড় করানো যায় তেমনি ফিজের উইকেট নেয়ার দক্ষতাও সেটার বিপক্ষেই কথা বলে। তাই ৪৬ ওয়ানডেতে ৮৩ উইকেট নেয়া ফিজই হচ্ছেন বিশ্বকাপে কাপ্তান মাশরাফির বোলিং লাইনআপের মুখ্য অস্ত্র।
এই তিনজন ছাড়াও টাইগার স্কোয়াডে রয়েছে ম্যাচ জিতানোর মতো আরো অভিজ্ঞ ও তারুণ্যের মিশেল
মুশি-রিয়াদ
তুলনামূলক ভাবে  টাইগারদের মিডল অর্ডার অন্য যেকোনো ডিপার্টমেন্ট থেকে সবচেয়ে অভিজ্ঞ। তার কারণও রয়েছে যথেষ্ট ভাবে। কারন জায়গাটা সামলানোর দায়িত্ব থাকছে মিস্টার ডিপেন্ডেবল মুশফিকুর রহিম আর ক্রাইসিসের সময়ে পারফর্ম করতে ওস্তাদ সাইলেন্ট কিলার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের উপর। ব্যাটিংয়ে এই জায়গাটাতে তাই নির্ভার থাকতেই পারে টাইগার টিম ম্যানেজমেন্ট। পাশাপাশি ব্রিটিশ মূলকে দুজনের অতীত অভিজ্ঞতাও বেশ দারুণ।
সৌম্য-লিটন
দ্রুত রান তুলে দেয়ার সক্ষমতা এবং দক্ষতা যেটা আধুনিক ক্রিকেটে অনেক বেশি দরকারি সেই কাজের জন্যই সৌম্য সরকার এবং লিটন দাস এই দুই ব্যাটসম্যানকে দলে নেয়া।  ব্যাটিং টেকনিক এবং শটস খেলার প্রবণতা দুটাই ইংলিশ কন্ডিশনে এই দুইয়ের সাথে বেশ ভালোভাবে মানায়।
এছাড়াও মিডল অর্ডারে আরেক হার্ডহিটার ব্যাটসম্যান সাব্বির রহমান, কিংবা মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতে বা কে জানে দুই তরুন অলরাউন্ডার মেহেদী মিরাজ বা সাইফউদ্দিনও যেকোনো দিনে এক্স ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করে লাল-সবুজের জয়ের নায়ক হয়ে যাওয়ার সামর্থ্য রাখে।পাশাপাশি মিথুন কিংবা সদ্য অভিষেক হওয়া আবু জায়েদ রাহিও সুযোগ পেলে মুখে থাকবে নিজেদের সেরাটা দেয়ার।
শেষটায় বলা যায় অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার কথা। যতই যা বলা হোক পুরো দল নির্ভর করবে তার অধিনায়কত্বের উপর। বদলে যাওয়া বাংলাদেশের ক্রিকেট, বিশ্ব ক্রিকেটে নতুন বাংলাদেশের শুরু এসব কথা গুলোর পিছনে আসল কারন বাংলাদেশের ভালো ক্রিকেট উপহার দেয়া।  আর এই সবকিছু যার নেতৃত্বে হয়েছে তিনি হলেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। নিজের অধিনায়কত্ব দেশের ক্রিকেটকে নিয়ে গেছেন অন্য উচ্চতায়।
বার বার ইনজুরিকে বুড়ো আঙুল দেখানো ম্যাশ সবসময়ই উজাড় করে দিয়েছে দেশের ক্রিকেটের জন্য। তবে অধিনায়ক মাশরাফির ছায়াতলে অনেক সময় হারিয়ে যায় ক্রিকেটার মাশরাফির দলে অবদান।  ওয়ানডেতে টাইগারদের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী ম্যাশ। ২০৯ ওয়ানডে ম্যাচে মাশরাফির শিকার ২৬৫ উইকেট যেখানে ইকোনমিটাও বেশ ভালো ৪.৮২।  বোলিংয়ের পাশাপাশি দরকারে ব্যাট চালানোরও সামর্থ্য আছে ম্যাশের। ওয়ানডেতে রান সংখ্যা ১৭৫২। তবে এতো কিছুর পরই তার নেতৃত্বে গুনের দিকেই তাকিয়ে থাকবে পুরো দল
এবারের বিশ্বকাপে শেষ চারে যাওয়াটা কিংবা ভালো ক্রিকেট খেলার সম্ভাবনা সেটা প্রত্যেকটা দলের জন্যই বেশ চ্যালেঞ্জিং। মাঠের লড়াইয়ে প্রমাণ করতে হবে প্রত্যেকটা দলকেই। এই জায়গায় কন্ডিশন বিবেচনায় বাংলাদেশের নাম অনেকে বাদ দিয়ে দিলেও ওয়ানডেতে গেলো ৪ বছরের পারফরম্যান্স আর ধারাবাহিকতায় বিশ্বমঞ্চে টাইগারদের  ভালো কিছু করার বেশ সম্ভাবনা রয়েছে।ৎ
লিখেছেন : আছিফ উদ্দিন জয়

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here