ক্রিকেটার মাশরাফির পাশাপাশি অধিনায়ক মাশরাফিতে বড় প্রত্যাশা টাইগার ভক্তদের

0
34

 

আছিফ উদ্দিন জয়: আজ থেকে শুরু হতে যাচ্ছে ২০১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপ। বিগত যেকোনো আসরের থেকে এবারের আসরে টাইগারদের উপর প্রত্যাশাটা অনেক বেশি সমর্থকদের। সেই প্রত্যাশা পূরণ করার দায়িত্ব নিয়ে যে ১৫ জন ক্রিকেটার যাচ্ছে লাল-সবুজের প্রতিনিধি হয়ে বিশ্বমঞ্চ মাতাতে তাদের নিয়ে স্পোর্টস নিউজ বাংলাদেশের ধারাবাহিক পনেরো প্রতিবেদনের পনেরো এবং সর্বশেষ প্রতিবেদনে আজ থাকছে কাপ্তান মাশরাফি বিন মর্তুজার কথা।

বদলে যাওয়া বাংলাদেশের ক্রিকেট, বিশ্ব ক্রিকেটে নতুন বাংলাদেশের শুরু এসব কথা গুলোর পিছনে আসল কারন বাংলাদেশের ভালো ক্রিকেট উপহার দেয়া। আর এই সবকিছু যার নেতৃত্বে হয়েছে তিনি হলেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। নিজের অধিনায়কত্ব দেশের ক্রিকেটকে নিয়ে গেছেন অন্য উচ্চতায়। ২০০১ সালে ওয়ানডে অভিষেক হওয়া ম্যাশের ক্যারিয়ারের বেশিরভাগ সময়ই কেটেছে ইনজুরির সাথে লড়াই করে আর তা থেকে ফিরে এসে নিজেকে প্রমাণ করার চ্যালেঞ্জে। তবে বরাবরই ম্যাশ ফিরে এসে প্রমাণ করেছেন কতটা দেশের প্রতি তার দায়িত্ব আর ক্রিকেটের প্রতি তার ভালোবাসা। বাংলাদেশের হয়ে ২০০৯ সালে অধিনায়কত্ব করার দায়িত্ব পেলেও অধিনায়ক হিসেবে নিজের প্রথম ম্যাচেই পড়েন আবারো সেই ইনজুরিতে। যার ফলে অধিনায়কত্ব যেমন হারাতে হয় ছিটকে পড়তে হয় দল থেকেও। ইনজুরি থেকে ফিরে এসে আবার ইনজুরিতে পড়েলে মিস করেন ঘরের মাঠের ২০১১ ওয়ানডে বিশ্বকাপ। এরপর আবারো জাতীয় দলে ফিরে আসেন মাশরাফি। পাশাপাশি নেতৃত্ব দিতে থাকেন পেস বোলিং ইউনিটকেও।

২০১৪ সালের শেষের দিকে মুশফিক স্থলাভিষিক্ত হিসেবে ওয়ানডে ক্রিকেটের নেতৃত্ব আবারো মাশরাফির কাঁধে তুলে দেয় ক্রিকেট বোর্ড। পুনরায় অধিনায়কত্ব পেয়ে প্রথম অ্যাসাইনমেন্টে জিম্বাবুয়েকে হোয়াইট ওয়াশ করে বাংলাদেশ। তারপর ২০১৫ অস্ট্রেলিয়া – নিউজিল্যান্ড বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের কোয়ার্টার ফাইনাল খেলার যোগ্যতা অর্জন করার যে সাফল্য সেটার পিছনে অধিনায়ক মাশরাফির ছিলো দারুণ নেতৃত্ব দেয়ার দক্ষতা। এরপর ম্যাশের অধিনায়কত্বেই ভারত, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ঘরের মাঠে সিরিজ জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করে টাইগাররা। ২০১৭ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতেও তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সেমিফাইনালে উঠে। তার হাত ধরেই দেশের ক্রিকেটে প্রথম ত্রিদেশীয় সিরিজ জয়ের স্বাদ পায় বাংলাদেশ।

অধিনায়ক মাশরাফি অধিনায়ক হিসেবে যেমন দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ঠিক তেমনি বল হাতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন দলের বোলিং আক্রমণ। বল হাতে ওয়ানডেতে এখন পর্যন্ত টাইগারদের সবচেয়ে সফল বোলর দেশ সেরা এই পেসার। ২০৯ ওয়ানডে ম্যাচে মাশরাফির শিকার ২৬৫ উইকেট যেখানে ইকোনমিটাও বেশ ভালো ৪.৮২। বোলিংয়ের পাশাপাশি দরকারে ব্যাট চালানোরও সামর্থ্য আছে ম্যাশের। ওয়ানডেতে রান সংখ্যা ১৭৫২। ইনজুরি আঘাত না হানলে সংখ্যাগুলো আরো বড় হতে পারতো ম্যাশের ক্যারিয়ারে।

আগে বোলিংয়ে গতি থাকলেও ইনজুরি পরবর্তী সময়ে কমেছে গতি তবে লাইন লেন্থ বজায় রেখে উইকেট বুঝে বোলিং করাটা মাশরাফির বোলিংয়ের সবচেয়ে বড় দিক। ২০০৭ বিশ্বকাপে ঐতিহাসিক ভারতের বিপক্ষে জয়ের ম্যাচে ৪ উইকেট নিয়ে হয়েছিলেন ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ। এখনো নতুন বল আর পুরান বল দুইটাতেই উইকেট নেয়াতে বেশ পটু মাশরাফি। দরকারের সময় এনে দিচ্ছেন ব্রেকথ্রুও। ইংলিশ কন্ডিশন বেশ ভালোভাবে জানা আছে মাশরাফির। তার অধিনায়কত্বেই ইংল্যান্ডের মাটিতে ওদেরকে প্রথম ম্যাচ হারায় বাংলাদেশ। রয়েছে ২০১৭ সালে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে সেমিফাইনাল খেলার অভিজ্ঞতাও।

ক্রিকেটার মাশরাফি সাথে অধিনায়ক মাশরাফি দুইটা চ্যালেঞ্জ বেশ ভালোভাবেই সামলাচ্ছেন ম্যাশ। বিশ্বকাপেও তার সামনে থাকবে এই দুইটা চ্যালেঞ্জ। বল হাতে নেতৃত্বে দিতে হবে পেস বোলিং ইউনিটকে সাথে নেতৃত্ব দিতে হবে পুরো দলকে। ইনজুরিকে বারবার বুড়ো আঙুল দেখানো ম্যাশ ইনজুরিমুক্ত থেকে নিজের শেষ বিশ্বকাপ খেলবেন এবং সাফল্য নিয়ে আসবেন এমনটাই আশা ভক্ত সমর্থক থেকে শুরু করে পুরো বাঙালি জাতির।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here