ক্যারিবিয়ানরাই বিশ্বকাপের কালো ঘোড়া

0
21

ওয়েস্ট ইন্ডিজের ঐতিহ্য-সংস্কৃতির সাথে দারুন এক মেলবন্ধন ক্রিকেটের। একসময় ক্রিকেটের সবক্ষেত্রেই সারা বিশ্বে রাজত্ব করে আসা দলটি হারিয়ে খুঁজছে নিজেদেরকে। ১৯৭০ এর দশক থেকে ১৯৯০ এর দশক পর্যন্ত ক্রিকেটে যে ওয়েস্ট ইন্ডিজর রাজত্বের কথা ইতিহাসের পাতা ঘাটলে পাওয়া যায় তা কালের বিবর্তনে বর্তমান ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের সাথে মেলালে নিছক রুপকথার গল্পছাড়া আর কিছুই মনে হবেনা। প্রথম তিন আসরের বিশ্বকাপের ফাইনালিস্ট যেখানে প্রথম দুই আসরের চ্যাম্পিয়ন আর পরের টায় রানার্সআপ সেখানে এর পর থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ যেন শুধুই অংশগ্রহণে পরিনত হয়েছে। ক্লাইড লয়েড, স্যার ভিভ রিচার্ডস, ম্যালকম মার্শাল, কর্টনি ওয়ালশ, কর্টলি অ্যামব্রোস থেকে শুরু করে ব্রায়ান লারা এদের সময়কার যে ক্যারিবীয় সময়টা ছিলো সেটা এখন আর নেই ঠিকই তারপরেও দলটার নাম যখম ওয়েস্ট ইন্ডিজ মাঠে যেকোনো সময় যেকোনো কিছু করে দেখানোর সামর্থ্য এদের থেকেই যায়। ১০ দলের এবারকার বিশ্বকাপ আসরে বাছাই পর্ব খেলে আসা দলটির অবস্থান র‍্যাঙ্কিংয়ের ৯বম স্থানে। নয় ফেভারিটও। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটে খেলার থেকে আনন্দ উপভোগ এই জিনিসগুলোই বেশি চোখে পড়ে। তারপর মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের প্রমাণ করার চ্যালেঞ্জ থাকবে সব দলের সামনেই। সেখানে সোনালী অতিত না থাকলেও চমক দেয়ার এতটুকু সামর্থ্য রয়েছে বর্তমান ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্বকাপ স্কোয়াডের।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের অতীত বিশ্বকাপ পরিসংখ্যানঃ-
১৯৭৫ ( চ্যাম্পিয়ন), ১৯৭৯( চ্যাম্পিয়ন), ১৯৮৩( রানার্সআপ), ১৯৮৭( ১ম রাউন্ড) , ১৯৯২( ১ম রাউন্ড) , ১৯৯৬( সেমিফাইনাল),১৯৯৯(প্রথম রাউন্ড) , ২০০৩( প্রথম রাউন্ড), ২০০৭ ( সুপার এইট), ২০১১( কোয়ার্টার ফাইনাল), ২০১৫ (কোয়ার্টার ফাইনাল)।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২০১৯ বিশ্বকাপ স্কোয়াডঃ-জেসন হোল্ডার (অধিনায়ক), ফ্যাবিয়ান , ড্যারন ব্রাভো, কার্লোস ব্র্যাথওয়েট, শেলডন কটরেল, শ্যানন গ্যাব্রিয়েল, ক্রিস গেইল, শিমরন হেটমায়ার, শেই হোপ (উইকেটরক্ষক), এভিন লুইস, অ্যাশলি নার্স, নিকোলাস পুরান (উইকেটরক্ষক), কেমার রোচ, আন্দ্রে রাসেল, ওশান টমাস।

বিশ্বকাপে ক্যারিবীয়দের এক্স ফ্যাক্টর হতে পারেন যারাঃ-

ক্রিস গেইল

নিঃসন্দেহে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পুরো স্কোয়াডের সবচেয়ে অভিজ্ঞ খেলোয়াড় ইউনিভার্স বস খ্যাত ক্রিস্টোফার হেনরি গেইল। বর্তমান বিশ্বকাপে অংশ খেলোয়াড়দের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৫ম বারের মতো বিশ্ব আসরে অংশ নিতে যাচ্ছেন এই ব্যাটিং দানব। ওয়ানডেতে এই জ্যামাইকানের সংগ্রহ ২৮৯ ম্যাচে রান ১০১৫১। বিশ্বকাপের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরির মালিকও গেইল। গেইলের দিনে প্রতিপক্ষ বোলিং লাইনআপকে গুড়িয়ে দিতে একাই যথেষ্ট এই উইন্ডিজ ওপেনার। তারউপর নিজের শেষ বিশ্বকাপকে বেশ ভালোভাবেই রাঙাতে চাইবেন গেইল। বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ভালো করাটা অনেকাংশে নির্ভর করবে গেইলের পারফরম্যান্সের উপর। দরকারে তার বল হাতে ডানহাতি অফস্পিনটাও অপশন হিসেবে থাকছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য।

শেই হোপ

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বর্তমান স্কোয়াডের সবচেয়ে ধারাবাহিক ওয়ানডে ব্যাটসম্যান। বিশ্বকাপের আগ পর্যন্ত খেলা শেষ ১০ ওয়ানডেতে শেই হোপের রয়েছে ৩ অর্ধশতক ও ২ টি শতক। যেখানে পুরো ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত ৫৪ ওয়ানডে থেকে ৫১.০৭ গড়ে হোপের রান ২২৪৭। পরিসংখ্যান থেকেই বলা যায় কতটা ধারাবাহিক হোপ ক্রিকেটের এই ফর্মেটে। বিশ্বকাপে উইন্ডিজদের ব্যাটিং লাইনআপের ৩ নাম্বার পজিশনে ব্যাটিং করার দায়িত্ব সামলাতে হবে হোপকেই।
ক্যারিবীয়দের ভালো কিছু করার পিছনে বড় এক্স ফ্যাক্টর হতে পারে হোপের ব্যাটিং।

আন্দ্রে রাসেল

গেইল আর হোপে যদি শুরু হয়ে থাকে উইন্ডিজদের ব্যাটিং তাহলে সেটাকে প্রতিপক্ষের নাগালের বাইরে বা রান তাড়ায় প্রতিপক্ষকে কাবু করতে যদি কারো সবচেয়ে বেশি সামর্থ্য থেকে থাকে তাহলে সেটা আন্দ্রে রাসেল। ব্যাটিংয়ে নিজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে সেরা ফর্মে আছেন এই হার্ড হিটার ব্যাটসম্যান। তারদিনে কন্ডিশন কিংবা প্রতিপক্ষ লাইনআপ কোনোটাই তারজন্য দেখাট বিষয় না হলেও বর্তমান ইংলিশ কন্ডিশন তার ব্যাটিংয়ের জন্য বেশ মানানসই। আইপিএলের এবারের আসর থেকেই নিজের ব্যাটিংকে অন্য পর্যায়ে নিয়ে গেছেন রাসেল। ওয়ানডেতে তার ১৩০ এর উপর স্ট্রাইক রেটই বলে দেয় কতটা আগ্রাসী হয়ে তিনি ব্যাটিং করতে পছন্দ করেন। শুধু ব্যাটিংই নয় বল হাতেও যেকোনো সময় প্রতিপক্ষের উইকেট নিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়ার সামর্থ্য বেশ ভালোই আছে গেইলের। ৫২ ওয়ানডে থেকে ৬৫ উইকেট তার অলরাউন্ড সামর্থ্যের কথাই জানান দেন। এসব কিছুর পাশাপাশি ফিল্ডিংয়েও বেশ অনবদ্য রাসেল।

এই তিনজন ছাড়াও ক্যারিবীয় লাইনআপে এমন কিছু খেলোয়াড় আছে তারা যেকোনো ম্যাচ নিজেদের করে নিতে পারে ব্যাটিংয়ে তরুন শিমরন হিটমায়ার কিংবা নিকোলাস পুরান তেমনই দুইজন। এছাড়াও দলটার আরেকটা শক্তির জায়গা অধিনায় জেসন হোল্ডার আর কার্লোস ব্র্যাথওয়েটের অলরাউন্ড সামর্থ্য। এদের পারফরম্যান্সও ভালো কিছু ক্যারিবীয়দের এনে দিলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

পাশাপাশি বোলিংয়ে তরুন ওশান থমাসের পেস কিংবা অভিজ্ঞ কেমার রোচের অভিজ্ঞতাও ইংলিশ কন্ডিশনে প্রতিপক্ষের জন্য বেশ ভালো আতংক হয়ে দাঁড়াতে পারে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট তার সাম্রাজ্য ফেলে এসেছে বহুকাল হতে চলেছে। ওসব শুনে এখন বর্তমানের সাথে মেলানো কোনো ভাবেই সম্ভব হয় না। বিশ্বকাপের এই আসরে কোনোভাবেই ফেভারিটও না। তারপর দলটার নাম যখন ওয়েস্ট ইন্ডিজ তখন আবার আগে থেকে কিছু অনুমেয় করা বলাটাও বেশ মুশকিল। মাঠের লড়াইয়ে এরা যেকোনো সময়ই যেকোনো কিছুই করে বসতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here