কোরীয় ক্লাবের জালে এক হালি গোলের উৎসব আবাহনীর

0
387

স্পোর্টস ডেস্কঃ এএফসি কাপের ইন্টার জোনাল সেমি ফাইনালের প্রথম লেগে উত্তর কোরিয়ার ক্লাব এপ্রিল টুয়েন্টি ফাইভের জালে এক হালি গোল দিয়ে জয় পেয়েছে ঢাকা আবাহনী লিমিটেড। তবে চার গোল দিলেও তিনটি গোল হজম করায় কিছুটা চিন্তার ভাঁজ রয়েছে আবাহনীর সমর্থকদের কঁপালে। কিন্তু সব ছাপিয়ে বিশ্বকাপ খেলা একটি দেশের অন্যতম সেরা ক্লাবকে পরাজিত করার উৎসবই এখন বড় আকাশী নীল বাহিনীদের কাছে।

ম্যাচের আগে অনেকেরই মনে প্রশ্ন ছিলো, কতটা প্রতিরোধ গড়তে পারবে আবাহনী? এএফসি কাপে দলের সেরা খেলোয়াড় মাসিই সাইঘানি ইতিমধ্যে দল ছেড়েছিলেন। তার পরিবর্তের মিসর থেকে আনা নাসের নিষেধাজ্ঞার কারনে আজকের ম্যাচ খেলতে পারবেন না এটা শেষ মুহূর্তে জানা যায়। এর মধ্যে আবার দলের মধ্যমাঠের কান্ডারি মামুনুল ইসলামও ছিলো অনিশ্চিত। মৌসুমের শুরুতেই ইনজুরির কারনে দলের দুই ভরসাবান খেলোয়াড় তপু বর্মন ও ফাহাদকে হারিয়েছে তারা। এই পরিস্থিতে কম গোল হজম করাই হওয়া উচিত ছিলো আবাহনীর লক্ষ্য। কিন্তু মাঠে দেখা গেল অন্য আবাহনীকে। কে আছে, কে নেই তা ভাবা বাদ দিয়ে প্রত্যেকে নিজেদের সর্বোচ্চ দেয়ার লক্ষ্যেই যেন মাঠে নামে আজ।

শুরু থেকেই ম্যাচে নিজেদের নিয়ন্ত্রন রাখার চেষ্টা করে ঢাকা আবাহনীর খেলোয়াড়রা। পাঁচজন ডিফেন্ডার নিয়ে মাঠে নেমে প্রতিপক্ষকে সমীহ করলেও শরীরি ভাষায় লড়াইয়ে প্রত্যয় লক্ষ্য করা যায় আকাশী-নীল বাহিনীদের মধ্যে। শক্তিমত্তায় অনেক এগিয়ে থাকা এপ্রিল টুয়েন্টি ফাইভের সাথে সমান তালে লড়াই করে আবাহনী। নিজেদের পরিশ্রমের ফল দ্রুতই পায় লেমসের শিষ্যরা। ম্যাচের ৩৩ তম মিনিটে জীবনের সহায়তায় দূরপাল্লার শটে গোল করে আবাহনীকে লিড এনে দেন সোহেল রানা। তবে লিড বেশিক্ষন ধরে রাখতে পারেনি ঢাকার জায়ান্টরা। এর দুই মিনিট পরই উত্তর কোরীয় ক্লাবটির পক্ষে সমতা আনেন চৌ।

গোল হজম করেও খেলার গতিতে পিছিয়ে যায়নি আবাহনী। রায়হান হাসানের লম্বা থ্রো বার বারই আতঙ্ক সৃষ্টি করছিলো এপ্রিল টুয়েন্টি ফাইভের ডি বক্সে। তার একটি লম্বা থ্রো হাফ ক্লিয়ার করে ডিফেন্ডাররা। বক্সের বাইরে বলটি পেয়ে জোড়ালো শট নেন ওয়ালি ফয়সাল। তা এপ্রিল টুয়েন্টি ফাইভের এক ডিফেন্ডার গায়ে লেগে বক্সে থাকা জীবনে পায়ে চলে যায়। বিপিএল ফুটবলে দেশীয় খেলোয়াড়দের মধ্যে সর্বোচ্চ গোল করা খেলোয়াড়ের জন্য সেই জায়গা থেকে গোলের পথ খুঁজে নিতে ততটা কষ্ট হয়নি। সেখান থেকে জীবনের গোলে ম্যাচে দ্বিতীয়বারের মতো লিড পায় ঢাকার জায়ান্টরা। এতেই ২-১ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় তারা।

দ্বিতীয়ার্ধে নেমে আবারও সমতায় ফিরে এপ্রিল টুয়েন্টি ফাইভ। ম্যাচের ৫৪ মিনিটে বদলি নামা এন এর সহায়তায় গোল করেন রিম। এর তিন মিনিট পর আবারও ঢাকা আবাহনী লিড পায়। এবার গোলদাতা সানডে চিজোবা। বার বার লিড নিয়েও আবার পিছিয়ে গোল হজম করা আবাহনী এবার আর ভুল করলো না। বরং ৬১ মিনিটে বেলফোর্ট কয়েকজনকে কাটিয়ে পাস দিলে সেখান থেকে নিজের দ্বিতীয় ও দলের পক্ষে চতুর্থ গোল করে ব্যবধান ৪-২ করেন সানডে। দুই গোলের ব্যবধানে এগিয়ে থেকে ম্যাচটি শেষ করতে পারলে হয়তো পরবর্তী রাউন্ডে ভালোই সুবিধা পেত ঢাকার জায়ান্টরা। কিন্তু ৭৭ মিনিটে কোরীয় ক্লাবের পক্ষে প্রথম গোলদাতা চৌ এর সহযোগীতায় ব্যবধান কমান পাক। শেষ দিকে এপ্রিল টুয়েন্টি ফাইভের একটি গোলের সুযোগে বারে লেগে না ফিরলে হয়তো সমতা আসতে পারতো ম্যাচে।তবে বাকি সময় নিজেদের রক্ষনকে ভালোভাবে সামলে নেয় লেমসের শিষ্যরা। আর এতেই ৪-৩ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে জীবন-সোহেল’রা।

ম্যাচ জয়ের আনন্দকে পাশে রেখে পরবর্তী রাউন্ডের খেলাতেই এখন মনযোগী হতে হবে ঢাকা আবাহনীকে। উত্তর কোরিয়া গিয়ে ড্র বা যেকোন ব্যবধানে জয় আবাহনীকে নিয়ে যাবে এক অনন্য উচ্চতায়। তবে তিন গোল পরিশোধ করায় নিজেদের মাঠে জয় দিয়ে জোনাল ফাইনালে যাওয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করবে এপ্রিল টুয়েন্টি ফাইভ।

আগামী ২৮ তারিখ কোরিয়ার কিম সাং স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় বিকেল তিনটায় এপ্রিল টুয়েন্টি ফাইভের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় লেগে নিজেদের তথা বাংলাদেশের ক্লাব ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি খেলতে নামবে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ লীগ জয়ী ঢাকা আবাহনী লিমিটেড।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here