কুড়িগ্রামকে এখন ফুটবলের নগর…ই বলা যায়

0
80

 

অল্পদিনের ব্যবধানে মুখ থুবরে পড়ে থাকা ফুটবলকে অক্লান্তিক পরিশ্রম, মেধা ও অর্থ সহ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে তাদের সহযোগীতায় ফুটবলেকে আরও একবার আলো মুখি করেছে ফুটবলের প্রান্ততিক চাষী জালাল হোসেন লাইজু। আর এটিকে আরো চাকচিক্য করতে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারন সম্পাদক আবু মো: সাঈদ হাসান লোবান যোগদানের পর থেকে নিরলস কাজ করেছেন। আর এ ফুটবলের আলো ও চাকচিক্যে ধীরে ধীরে কুড়িগ্রাম ফুটবলের নগরীতে পরিণত হতে শুরু করে। এ গোছালো প্লাটফর্মে নবাগত ক্রীড়া কর্মকর্তা এসে তার আয়োজনের বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল অনুর্ধ-১৭ বালক ও বালিকা খেলার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তার ভালো কাজের মানসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। ক্রীড়ামোদীরা বিশ্বাস করেন সংশ্লিষ্ট সকলের এ কাজের ধারা ও ক্রীড়া প্রেম অব্যাহত থাকলে কুড়িগ্রাম জেলাটি ফুটবলের মাধ্যমে দেশে ও বাইরে পরিচিতি লাভ করবে। যার ফল সরুপ আমরা ইতি মধ্যে দেখেছি এ জেলার কয়েকজন ফুটবল পেলায়ার ব্রাজিল, ভারত সহ অনেকে দেশে খেলার সুযোগ পেয়েছে। ভ‚রুঙ্গামারীর বাঁশজানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বঙ্গমাতা জাতীয় গোল্ডকাপ খেলায় ঢাকার মাঠে খেলে এ জেলার পরিচিতি ঘটিয়ে আলোরন সৃষ্টি করেছে।
জানামতে খুব বেশী দিনের কথা নয়, অল্প দিনের ব্যবধানে কুড়িগ্রাম থেকে ফুটবল হারিয়ে গিয়েছিল। বর্তমান প্রাক্তন ফুটবলাররা কেউ কেউ তাদের প্রতিভায় দেশের বাইরে, জেলার বাইরে চলে যান, আবার কেউ জীবন বাচার তাগিতে আয়ের দিকে ধাবিত হয়েছিলেন ঠিক ঐ সময়ে ফুটবল খেলাটি তার জৌলস হারিয়ে নিমজ্জিত হয়ে পড়ে। ফুটবলের খারাপটা খুব সহজে বা অল্প দিনের ব্যবধানে আসলেও তা গড়াতে দীর্ঘ সময় অর্থাৎ অনেক কাঠ-খড়ি পোড়াতে হয়ে। আর এ কাঠ-খড়ি পোড়াতে ফুটবলের অন্ধকারে হারিয়ে যাওয়া জৌলস ফেরাতে আগম ঘটল যাকে এখন ফুটবলের প্রান্তিক চাষী হিসেবে আখ্যায়ি জালাল হোসেন লাইজু। একেবারে একজন ফুটবল পাগল মানুষ। তিনি তার জন্মস্থান কুড়িগ্রাম জেলায় এসে আদা-জল খেয়ে ফুটবলকে জাগাতে একের পর এক কৌশল অবলম্বন অব্যাহত রাখে। তাতে করে শহর থেকে গ্রাম ও প্রত্যান্ত অঞ্চলে গিয়ে এক অভিভাবকদের এক প্রকার হাতে-পায়ে ধরে তাদের বাচ্চাদের ফুটবল ও ক্রীড়া জগতে নিয়ে আসার প্রচেষ্ঠা চলমান রাখলেন। তাতে করে এ প্রচেষ্টার পিছনে যে অর্থ সময় বা লোকবল লেগেছে সেটিও তিনি তার মেধার জোরে পুরণ করেছে। তিনি প্রতিষ্ঠা করেছে কুড়িগ্রাম ক্রীড়া উন্নয়ন সমিতি, কুড়িগ্রাম ফুটবল প্রশিক্ষণ স্কুল ইত্যাদি। উদ্বুদ্ধ করেছেণ সাবেক খেলোয়ারদের, বন্ধ হয়ে যাওয়া বিভিন্ন ক্রীড়া ক্লাবগুলোর পরিচালনা পর্ষদকে। তার এ কাজ দেখে অনেক ক্রীড়ামোদী ও সাবেক খেলোয়াররা এগিয়ে এসেছেন। কিন্তু সে সময়ে যাদের আসার কথা ছিল তারা কিন্তু এটার চরম বিরধিতায় লিপ্ত ছিলেন। যাদের বলতে যা বোঝাতে চেয়েছি তা হলো ক্রীড়া জগতের সাথে জড়িত সরকারী অনুদান প্রাপ্ত সরকারী, বে-সরকারী ক্রীড়া প্রতিষ্ঠানের উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষদের। কারণ খেলা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু তার জন্য অর্থ আসা বন্ধ হয়নি। আর এসব অর্থে সুফল ভোগ করছিল ঐ সময়ের সংশ্লিষ্টরা। যাক তাদের কথা নায়ে…ই বলি। ফুটবলের প্রান্তিক চাষী জালাল হোসেন লাইজুকে সে সময়ে অনেকে সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে ছিল। ফলে তার নিজের মেধা ও সহযোগীদের সহযোগীতায় তার কামনা, বাসনা আস্তে আস্তে আলোর মুখ দেখতে শুরু করে। তার ফুটবল প্রশিক্ষণ স্কুল খেলোয়ার তৈরিতে ব্যাপক আলোরন করে। মুখ থুবরে পড়ে থাকা এ জগতটি আবার মাথা চাড়া দিয়ে আলোমুখি হয়। এটিকে আরো বেগবান করতে তিনি শুরু করেন ‘একটি বল একটি গ্রাম, ফুটবলের নগরী কুড়িগ্রাম, মাঠে মাঠে ফুটবল, ইমরুল গোলস্, অপারেশন কোহিনুর, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফুটবল লীগ সহ বিভিন্ন নামে ফুটবল প্রতিযোগিতা। একে একে এসকল প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে থাকে বন্ধ হয়ে থাকা ক্রীড়া ক্লাবগুলো। জাগ্রত হয় ফুটবলের নগরী কুড়িগ্রাম। ধারা চলমান থাকাবস্থায় জেলা ক্রীড়া সংস্থায় আসল আমুল পরিবর্তন। সাধারন সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন আবু মো: সাঈদ হাসান লোবান। তার বাড়ী শহরের গহড়পার্ক মাঠ সংলগ্ন, তিনি একজন খেলোয়ার তাইতো এ জগতের গতি আরো বৃদ্ধি পেতে থাকল। এর ধাপে ধাপে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকগণদের আগমনে এবং সর্বপরি মাদক বিরোধী আন্দোলনের ¯েøাগানে ক্রীড়া জগত জড়িয়ে পড়ে প্রশাসনের সহযোগীতার হাত সবমিলিয়ে বর্তমানে কুড়িগ্রাম এক ফুটবলের নগরী। এ নগরীর প্লাটফর্মে নবাগত জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা মো: আকরাম হোসাইন এর আগমন। তিনি ক্রীড়া জগতের সুন্দর পরিবেশ পেয়ে তার ক্রীপ্রেমকে এবং ক্রীড়া নিয়ে কাজ করার মানষিকতাকে প্রকাশ করেন। যার প্রমান দিয়েছেন গত সেপ্টেম্বর’১৯-এ বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা জাতীয় গোল্ডকাপ অনুর্ধ-১৭ বালক ও বালিকা খেলা জেলা পর্যায় থেকে শুরু করে বিভাগীয় পর্যায় প্রর্যন্ত খেলার গোছালো পরিবেশ থেকে প্রমাণ পাওয়া যায়। জেলা পর্যায়ে টানা ৬দিনের খেলা এবং বিজয়ী দলের পুরস্কার, বিভিন্ন উপাধি প্রাপ্ত খেলোয়ারদের পুরস্কার, উপস্থিত অতিথিগণের জন্য সম্মানা পুরস্কার সহ সার্বিক আয়োজনে ছিল নান্দনিকতার ছোয়া পাওয়া যায়। এতে করে ফুটবলের আলোরন বৃদ্ধি পেয়ে ক্রীড়ামোদিদের মনে স্থান করে নিয়েছে।
আগামীতে ডিএফএ’র সভাপতি হিসেবে জালাল হোসেন লাইজুকে দেখতে চায় এ জেলার ক্রীড়া প্রেমি মানুষজন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here