কিংস মিনহাজের জন্মদিনে ফুটবলের নগরীর লাইজুর খোলা চিঠি

0
626

আজ মিনহাজ এর জন্মদিনে, ফুটবল নগরী কুড়িগ্রাম এর একটা গল্প শোনাই। তবে তার আগে রাশিয়ার একটি গল্প। মজা দেবার জন্য এ গল্প টিতে একটু রস দেবো। কারন আমাদের গল্পতো গল্প নয়, জীবন কাহিনী। একবার এক বৃদ্ধ ভিক্ষুক ভিক্ষে করার জন্য এক বাসায় এসে বললো, আমাকে কিছু খেতে দাও। বাস্তবেই তিনি খুব ক্ষুধার্ত ছিলেন। কোন ভাবেই ও বাসা থেকে নড়ছিলেন না। বাড়িতে একজন বৃদ্ধাই থাকতেন। তিনি নিজেও গরীব। বললেন, দেখুন আমি নিজেই খেতে পাইনা, আপনাকে কি ভাবে খাওয়াবো। ভিক্ষুক বললেন ঠিক আছে আমি একটু পানি খেয়ে, বিশ্রাম নিয়ে চলে যাবো। উনি বললেন কোন অসুবিধা নেই। ভিক্ষুক বিশ্রাম এর এক ফাঁকে বললেন, আমাকে কুড়ালের মাথাটি ধুয়ে দাও আর রান্না ঘড়টা দেখিয়ে দাও। বাড়ির বৃদ্ধা এবার বুঝলেন ক্ষূধার জ্বালায় বুড়োর মাথা পুরোপুরি খারাপ হয়ে গেছে। ভিক্ষুক চুলো ধরিয়ে এক হাড়ি পানির মধ্যে লোহার কুড়ালের মাথাটি কাপড় দিয়ে বেঁধে ছেড়ে দিলেন। সামান্য পরে ভিক্ষুক বললো আমার মনে হয় কিছূ পচা আলু দেখতে পারছি যা পুরোটা পচেনি। তিনি ভালো টুকু কেটে হাঁড়িতে দিলেন। ভালো করে খুঁজে চালের খুদ পেলেন, ভালো করে ধুয়ে সে গুলো হাঁড়িতে দিলেন।কিছু সময় পরে কাপরে বাধা কুড়ালের মাথাটি তুলে রেখে দিলেন। এর পর ভিক্ষুক বৃদ্ধাকে ডাকলেন, বললেন, আপনিও‍তো ক্ষুধার্ত, খেতে আসুন। আচ্ছা আপনার মাথা ঠিক আছে তো? আমাকে কি লোহা খেতে বলছেন? আরে আসুন না। সত্যিতো খাওয়া নিয়ে বসে আছেন। আপনি যাদু জানেন‍ নাকি? ভিক্ষুক বললো কেনো বলুনতো। আপনি এগুলো পেলেন কোথা থেকে? ভিক্ষুক বললো দেখুন সব কিছু আপনারোই ছিল। আপনার অলসতা, হতাশা আপনাকে মানসিক ভাবে দূর্বলতা করে দিয়েছে। কেউ এমন ছিলনা যে আপনাকে অনুপ্রাণিত করবে।এই হচ্ছে রাশিয়ান গল্প। নোমি নোমানসহ আমার অনেক ছাত্র রাই এই গল্পটি জানে। আমি বলেছিলাম। আমাদের ফুটবল নগরী কুড়িগ্রাম এ যখনই আমরা হতাশ হয়েছি, অলস হয়েছি, অভাবে পড়েছি, এ গল্প টি আমাকে সহযোগিতা করেছে। আমাদের ফুটবল নগরীর সাম্প্রতিক যে উন্নয়ন ঘটেছে তাতে মিনহাজ ভাইয়ের একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। প্রথমত তিনি কোনো রকম ফরমালিটি ছাড়াই ফুটবল নগরী কুড়িগ্রাম এসেছে বেশ কয় বার। ফুটবলার, কোচ, স্থানিয় সংগঠক সকলকে বুঝিয়েছেন, বিশ্বাস করিয়িছেন তোমরা প্রস্তুত হয়ে যাও। তোমরা বসুন্ধরা কিংস কাপ খেলবে। ফুটবল নগরী কুড়িগ্রাম তাকে সবার আগে বুঝেছিল বলেই যেমনটি ফুটবলার বেরিয়েছে তেমনি সংগঠক। বেরিয়েছে ফ‍্যানস।সকল কিছুর মূলে মিনহাজ ভাইয়ের সাংগঠনিক সফর। এখানকার একাডেমী চেনা।আজ আমাদের শুধু বয়স ভিত্তিক দল গড়ে উঠেনি। কুড়িগ্রাম জেলা বসুন্ধরার বিভিন্ন বয়সের দল রয়েছে। বসুন্ধরা ডেভলপমেন্ট দল পর্যন্ত গড়ে উঠেছে। কিংসের খেলা এক সেট জার্সি অ-১২, ১৩, ১৪, ১৫, ১৬ ও ১৭ সকলকেই প্রেরনা দিচ্ছে। সুতরাং আমাদের যতটুকু আছে তাই আমরা যদি সঠিক ভাবে, পরিকল্পনা করি! ফুটবল এগিয়ে যাবে। ধন্যবাদ । আর পরিশেষে স্পোর্টস নিউজ বাংলাদেশের সম্পাদক ও বসুন্ধরা কিংস সেক্রেটারী মিনহাজুল ইসলাম মিনহাজকে জানাই দেশের সকল ক্রীড়ামোদী মানুষের পক্ষ থেকে শুভ জন্মদিনের শুভেচ্ছা। শুভ জন্মদিন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here