এশিয়ার রাজা এখন কাতার!

0
266

স্টাফ রিপোর্টারঃ এশিয়ান কাপ শুরুর আগেই এক অদ্ভুত প্রেডিকশন করে ফুটবল বিশ্বকে চমকে দেন ফুটবল লিজেন্ড জাভি হার্নান্দেজ। তার প্রেডিকশনে তিনি বলেছিলেন এবার এশিয়ান কাপ জিতবে কাতার!

এই প্রেডিকশনে অবাক হয়েছিলো কাতারের অনেক জনগণ। কারণ যে টুর্নামেন্টে খেলবে জাপান, কোরিয়ার, অস্ট্রেলিয়ার মতো পরাশক্তি সেখানে কাতার জিতবে এটা ভাবাও একপ্রকারের বিলাসিতা বলা যায়।

আর এই প্রেডিকশন দিয়ে অনেক ট্রলের মুখে পড়েন এই লিজেন্ডারি ফুটবলার বিশেষ করে ভারত প্রথম রাউন্ড পাড় হতে পারবেনা এটা ইন্ডিয়ানরা মেনে নিতে পারেন নি।

কিন্তু টুর্নামেন্ট শুরুর পর হতেই জাভির কথা যেনো বাস্তব হয়ে যাচ্ছিলো । কোনো গোল হজম না করে এশিয়ান কাপের ফাইনালে পৌঁছে সবাইকে চমকে দেয় কাতার।

আর সর্বোচ্চ চারবারের চ্যাম্পিয়ন জাপানও পেরে উঠল না গতকালের ফাইনালে।

গতকাল আবুধাবির ফাইনালে জাপানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে মর্যাদার শিরোপাটা প্রথমবার জিতল ২০২০ বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ। একই টুর্নামেন্টে সৌদি আরব, দক্ষিণ কোরিয়া, ইরাকের পর জাপানের মতো পরাশক্তিকে হারানোটা রূপকথা ছাড়া আর কী? বিশ্বকাপের আগে এই শিরোপাটা তাই স্বপ্নপূরণ কাতারের।
স্বাগতিক আরব আমিরাতকে সেমিফাইনালে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত করার সময় গ্যালারি থেকে কাতারের ফুটবলারদের দিকে ছুটে এসেছিল জুতা, ফল আর পানির বোতল। সেই কাতারের জন্য গতকাল গলা ফাটাতে কার্পণ্য করেননি আবুধাবির জায়েদ স্পোর্টস সিটি স্টেডিয়ামের দর্শকরা। জাপানি সামুরাই ভোঁতা করে কাতার ১২ মিনিটে এগিয়ে যায় আলমুজ আলীর অসাধারণ গোলে। আকরাম হাসান আফিফের কাছ থেকে বল পেয়ে ডি-বক্সের সেন্টার থেকে করা বাইসাইকেল কিকে শৈল্পিক গোল তাঁর। একটা রেকর্ডও পেছনে পড়ল তাতে। ইরানি কিংবদন্তি আলী দায়ির এক আসরে সবচেয়ে বেশি গোলের রেকর্ড ছিল ৮টি।

আলমুজ আলী এই আসরে করলেন ৯ গোল। অথচ সুদানে জন্ম হওয়ায় তাঁর খেলার বিপক্ষে আনুষ্ঠানিক আপত্তিও জানিয়েছিল স্বাগতিক আরব আমিরাত। এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনসের কর্তারা বিবেচনায় নেননি সেই অভিযোগ।

বিরতির আগেই ব্যবধান ২-০ করেছিল কাতার। ২৭ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া বাঁ পায়ের মাপা শট আবদেলাজিজ হাতিম জড়ান জালে। ডাইভ দিয়েও এর নাগাল পাননি জাপানি গোলরক্ষক। এবারও অ্যাসিস্ট সেই আকরাম হাসান আফিফের। ৬৯ মিনিটে তাকুনি মিনামিনো এক গোল ফেরান জাপানের হয়ে। কিছুটা উত্তেজনা ফেরে ম্যাচে। আবার দপ করে নিভেও যায় ৮৩ মিনিটে ইউশিদার হ্যান্ডবলে কাতার পেনাল্টি পায় ভারের সহযোগীতা নিয়ে । দুই গোলের কারিগর আকরাম হাসান আফিফের সফল স্পট কিকে কাতার জেতে ৩-১ গোলে। সঙ্গে স্বপ্নের শিরোপাও।

আর জয়ের সাথে সাথে গোটা কাতার নেমে আসে রাস্তায়। বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট ফ্রি করে দেওয়া হয় খাওয়ার জন্যে। দেশের আনাচেকানাচে থেকে শুরু হয় বিজয় মিছিল।

এটি যে শুধু জয় নয় কাতারের এটি একটি জবাব তাদের জন্যে যারা কাতারের বিশ্বকাপ খেলা নিয়েই আপত্তি করেছিলো। তাই হয়তো আনন্দের মাত্রা সীমা ছাড়িয়ে পৌঁছে গেছে অসীমে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here