ইংল্যান্ডের গতির  ঝড়ে উড়ে গেলো  ওয়েস্ট ইন্ডিজ

0
145

স্পোর্টস ডেস্কঃ বিশ্বকাপে গতির ঝড় তোলার ক্ষেত্রে তুলনা করা হচ্ছিলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের। তুলনার ধারে কাছেও গেলো না ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বল হাতে ক্যারিবীয়দের অল্পতে আটকে দেওয়ার পর ইংল্যান্ড ব্যাটিংয়েও হোল্ডারদের শাসন করেছে পুরোভাগে। ব্যাট-বলের অসাধারণ নৈপুণ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে স্বাগতিকরা। ২১৩ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ৩৩.১ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে জয় তুলে নিয়েছে মরগানের দল।

সাউদাম্পটনে পাকিস্তান ম্যাচের পর আরেকটি সেঞ্চুরি উপহার দিয়েছেন জো রুট।  ব্যাট হাতে পুরোভাগে নেতৃত্ব দিয়েছেন ইংলিশদের। তাই ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনিই।
মরগান আর জেসন রয় ইনজুরিতে পড়ায় ব্যাটিং অর্ডারে বেশ অদল বদল আনতে হয় ইংল্যান্ডকে। বেয়ারস্টোর সঙ্গী হয়ে নামেন রুট। যাদের শুরুটাও ছিলো এক কথায় আধিপত্য বিস্তার করে। ক্যারিবীয় বোলিং দিয়ে কোনও বিপদে ফেলতে পারেনি ইংলিশদের। বরং বিনা উইকেটে ১৫ ওভারে স্কোর বোর্ডে জমা হয়েছে ৯৫। ৪৫ রানে ব্যাট করতে থাকা বেয়ারস্টো আউট হয়েছেন নিজের ভুলে। তবে অপরপ্রান্ত ঠিকই বুঝে শুনে খেলেছেন রুট। ক্রিস ওকস লোয়ার অর্ডার থেকে উপরে নেমে ৪০ রানের অসাধারণ ইনিংস উপহার দিয়েছেন। তার বিদায়ের পর বেন স্টোকস নামলে ইংল্যান্ডের খুব বেশি লাগেনি জয় পেতে। ইংলিশ অলরাউন্ডার দ্রুত কিছু রান নিয়েই দলকে জিতিয়ে মাঠ ছেড়েছেন। রুট অপরাজিত ছিলেন ১০০ রানে। ৯৪ বলের ইনিংসে ছিলো ১১টি চার।

এই জয়ে ৪ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে উঠলো ইংল্যান্ড। সবার শীর্ষে নিউজিল্যান্ড, তাদের পয়েন্ট ৭। আবার সমান ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে নেট রান রেটে পিছিয়ে তিনে অস্ট্রেলিয়া।

ম্যাচের আগে ক্যারিবীয়দের বারুদে ব্যাটিং দেখার অপেক্ষায় ছিলেন অনেকেই। কিন্তু গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে উইকেট হয়েছিলো আর্দ্র। সেই সুযোগটা টস জিতে কাজে লাগিয়েছেন ইংলিশ অধিনায়ক এউইন মরগান।

উইকেট থেকে সহায়তা পাবেন বলে শুরুতে নেন বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত। তা যে ভুল ছিলো না সেটা প্রমাণ পাওয়া গেছে তৃতীয় ওভারেই।

শুরুতে তাদের গতির ঝড় তুলে কাঁপিয়ে দেন ক্রিস ওকস। তৃতীয় ওভারে এভিন লুইসকে ফিরিয়ে ক্যারিবীয়দের ওপর চাপ সৃষ্টি করে ইংলিশরা। অপরপ্রান্ত থেকে ওপেনার ক্রিস গেইল ব্যাট হাতে সেই চাপ মুক্তির একটা ক্ষণস্থায়ী প্রয়াস চালিয়েছিলেন। ৪১ বলে ৫ চার ১ ছক্কায় ৩৬ রান করেও ফেলেছিলেন। সেই গেইলকে সাজঘরের পথ ধরিয়ে পর পর দুই উইকেট নিয়ে আরও চাপ বাড়িয়ে তুলে ইংলিশরা। শুরুতে লিয়াম প্লাঙ্কেট তালুবন্দী করান গেইলকে। নতুন নামা শাই হোপকে তার পরের ওভারে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলে।

৫৫ রানে তিন উইকেটের পতনে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও ক্যারিবীয় ইনিংসকে পথ দেখানোর চেষ্টা করে নিকোলাস পুরান ও শিমরন হেটমায়ার জুটি। ৮৯ রান করে বড় কিছুর সম্ভাবনাও জাগিয়ে তুলেছিলো তারা।

অথচ যখন নিয়মিত বোলাররা যখন এই জুটির ওপর আঘাত হানতে পারছিলেন না তখন খণ্ডকালীন জো রুট এসে জুটি ভেঙে সাফল্য এনে দেন ইংল্যান্ডকে। হেটমায়ারকে ৩৯ রানে বিদায় দিয়ে পুরো ইনিংসের চেহারাই পাল্টে দেন টপ অর্ডার এই ব্যাটসম্যান।

আন্দ্রে রাসেল ১৬ বলে দ্রুত ২১ রান করে বিদায় নেওয়ার পর পুরানও ফিরে গেছেন জুতসই সঙ্গীর অভাবে। ৬৩ রান করা পুরানকে বিদায় দিয়েছেন আরেক ক্যারিবীয় পেসার আর্চার। ততক্ষণে স্কোর ছিলো ৭ উইকেটে ২০২ রান।

এরপর আর লেজ ছেঁটে দিতে সময় লাগেনি ইংলিশ পেসারদের। আর্চার আর আর উড মিলে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৪৪.৪ ওভারে গুটিয়ে দিয়েছেন ২১২ রানেই!
গতির ঝড় তোলার ক্ষেত্রে ক্যারিবীয় আর্চার ও মার্ক উডের প্রতিদ্বন্দ্বিতাটা চলছে সমান তালে। ৩০ রানে ৩টি উইকেট নিয়েছেন আর্চার আর ১৮ রান দিয়ে ৩টি নিয়েছেন উড। দুটি নিয়েছেন রুট আর একটি করে ক্রিস ওকস ও লিয়াম প্লাঙ্কেট।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here