আবাহনীকে হারিয়ে ফাইনালে বসুন্ধরা কিংস

0
409

নির্ধারিত সময়ে ১-১ গোলের ড্র ম্যাচটা অতিরিক্ত ত্রিশ মিনিটেও সমাধান হলো না। টাইব্রেকারে গড়াল ম্যাচ। একের পর এক পাঁচটা করে শট নিল দুই দল। ৪-৪ সমতা। ম্যাচ গড়াল ‘সাডেন ডেথে’। এখানেও সমতা চলতে থাকল। তারপর বসুন্ধরা কিংসের গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকো রুখে দিলেন ইমতিয়াজ সুলতান জিতুর শটটা। কী অবাক ব্যাপার, পরের শটটা নিতে এগিয়ে এলেন জিকোই। গোলরক্ষক বনাম গোলরক্ষক। জিকোর মতো দুঃসাহসী হতে পারলেন না আবাহনী লিমিটেডের গোলরক্ষক। জিকোর দুর্দান্ত শটটা জাল খুঁজে নিতেই স্বাধীনতা কাপের ফাইনালে উঠার উচ্ছ¡াসে ফেটে পরল বসুন্ধরা কিংস সমর্থকরা। টাইব্রেকারে ৭-৬ গোলে জিতল তারা।

মৌসুমের দ্বিতীয় টুর্নামেন্টেও ফাইনাল। তাও সেই আবাহনীকে হারিয়ে! এরচেয়ে মধুর প্রতিশোধ আর কী হতে পারতো! ফেডারেশন কাপের ফাইনালে এই আবাহনীর কাছেই হেরে শিরোপাবঞ্চিত হয়েছিল বসুন্ধরা কিংস। গতকাল সেই পরাজয়ের শোধটা ভালভাবেই নিয়ে নিল বসুন্ধরা কিংস। ফাইনালে তারা শেখ রাসেলের মুখোমুখি হবে।

বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে টাইব্রেকারে গড়ানো ম্যাচটায় প্রথম ৫ শটে চারটি করে গোল করে বসুন্ধরা ও আবাহনী। এরপর সাডেন ডেথের তিনটিতেই গোল করে ফাইনালিষ্ট বসুন্ধরা। আবাহনী মিস করে অষ্টমটি। টাই্েরবকারে বসুুন্ধরার পক্ষে প্রথম পাঁচ শটে গোল করেন কিরগিজস্তানের বখতিয়ার দুইশভেকভ, ব্রাজিলের মার্কোস ভিনিসাস, হেমন্ত ভিনসেন্ট বিশ্বাস ও মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন। পঞ্চম শটটা নিতে এসে গোল মিস করেন বিশ্বকাপ খেলা কোস্টারিকার তারকা ড্যানিয়েল কলিনড্রেস। এই গোলটা হয়ে গেলে সাডেন ডেথের আগেই ম্যাচটা জিতে নিতো বসুন্ধরা কিংস। আবাহনীর পক্ষে প্রথম পাঁচ শটে গোল করেন মাসিহ সাইঘানি, ওয়ালি ফয়সাল, রুবেল মিয়া ও সানডে চিজোবা। তবে মিস করেন বেলফোর্ট। সাডেন ডেথে বসুন্ধরার পক্ষে গোল করেন রোকোনুজ্জামান কাঞ্চন, মাসুক মিয়া জনি ও আনিসুর রহমান জিকো। আবাহনীর পক্ষে সাডেন ডেথে রায়হান হাসান ও টুটুল হোসেন বাদশাহ গোল করলেও মিস করেন ইমতিয়াজ সুলতান জিতু।

ফেডারেশন কাপের ফাইনালে আবাহনী লিমিটেডের কাছে পরাজিত বসুন্ধরা কিংস স্বাধীনতা কাপের সেমিফাইনালে শুরু থেকেই দুর্দান্ত ফুটবল খেলে। প্রথমার্ধে কোন পক্ষই গোল করতে পারেনি। তবে ৭১তম মিনিটে দারুণ এক গোলে এগিয়ে যায় তারাই। মধ্যমাঠ থেক বল ধরে বদলি খেলোয়াড় মতিন মিয়া ডান পায়ের জোড়ালো শটে পরাস্থ করেন আবাহনীর গোলরক্ষক শহীদুল আলমকে (১-০)। ওই গোলের পর খুব বেশী সময় উৎসবমূখর থাকতে পারেনি নবাগত দলটি। ৮২তম মিনিটে অসাধারন এক হেডে সমতা আনে আবাহনী। সমতা আনেন দলটির হাইতির স্ট্রাইকার বেলফোর্ট(১-০)। সমতা আসার পর খেলায় গতি বেড়ে যায়। কিন্তু গোলের দেখা পায়নি কোন দলই। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের পর অতিরিক্ত ৩০ মিনিটেও আর গোল হয়নি। ফলে টাইব্রেকারে গড়ায় দ্বিতীয় সেমিফাইনাল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here